লেবু বা কমলা খাওয়ার পর খোসা সাধারণত আবর্জনাতেই চলে যায়। কিন্তু এই খোসাগুলিই ঘর মোছার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। খোসা জলে ফুটিয়ে তৈরি করা জল মোছার বালতিতে ব্যবহার করলে মেঝেতে মিষ্টি সাইট্রাসের গন্ধ ছড়াতে পারে এবং ঘরকে আরও সতেজ মনে হতে পারে। খুব সহজেই বাড়িতে তৈরি করা যায় এই মিশ্রণ।

ফেলে দেবেন না লেবুর খোসা
লেবুর খোসায় থাকা প্রাকৃতিক সুগন্ধের কারণে এটি ঘর মোছার জলে ব্যবহার করা যায়। সরাসরি খোসা জলে ফেলে দেওয়ার পরিবর্তে খোসা ফুটিয়ে সেই জল ব্যবহার করলে সুগন্ধ আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে রান্নাঘর বা ঘরে রান্নার গন্ধ থাকার পর এই ধরনের সাইট্রাসের সুবাস সতেজ অনুভূতি দিতে পারে।
কীভাবে তৈরি করবেন খোসার জল?
প্রথমে প্রায় ১ কাপ পরিষ্কার করা লেবু ও কমলার খোসা নিন। এবার ১ লিটার জলে খোসাগুলি দিয়ে প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর জলটি ঠান্ডা করে ছেঁকে নিন। এই জল সরাসরি মোছার বালতির জলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরও সুন্দর গন্ধ চাইলে
ঘর মোছার সময় হালকা সুগন্ধ পছন্দ করলে বালতির জলে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার বা লেমনগ্রাস এসেনশিয়াল অয়েল যোগ করা যেতে পারে। এতে মোছার পর ঘরে সতেজ সুবাস অনুভূত হতে পারে। তবে এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহারের আগে মেঝের উপাদান ও প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা মেনে চলা উচিত।

জীবাণু দূর করতে শুধু খোসার জলের উপর ভরসা নয়
লেবু বা কমলার খোসা দিয়ে তৈরি জল মূলত ঘরকে সতেজ রাখার একটি ঘরোয়া উপায়। এটি কোনও নিশ্চিত জীবাণুনাশক হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। মেঝে থেকে ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য জীবাণু কমানোই যদি মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে জীবাণুনাশক হিসেবে লেবেল করা ফ্লোর ক্লিনার ব্যবহার করা উচিত। প্যাকেটের নির্দেশিত পরিমাণ মেনে ক্লিনার ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিনের মেঝে মোছায় কী ব্যবহার করবেন?
সাধারণ ধুলো-ময়লা পরিষ্কারের জন্য সাবান বা ডিটারজেন্ট-ভিত্তিক ক্লিনার ব্যবহার করা যায়। এগুলি মেঝের ময়লা ও ধুলো সরাতে সাহায্য করে এবং অনেক অণুজীবও পরিষ্কার হতে পারে। তবে সাধারণ ক্লিনারকে সম্পূর্ণ জীবাণুনাশক হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ঘর মোছার পর মেঝে পরিষ্কার হলেও অনেক সময় ঘরে সেই সতেজ অনুভূতি পাওয়া যায় না। ফেলে দেওয়া লেবু ও কমলার খোসা কাজে লাগিয়ে তৈরি করা যায় সুগন্ধযুক্ত মোছার জল। তবে জীবাণু কমানোর উদ্দেশ্যে ঘর পরিষ্কার করলে উপযুক্ত জীবাণুনাশক ক্লিনার ব্যবহারের বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।








