সাওন কাঁওয়ার যাত্রায় নীলকণ্ঠ পথে বিদেশি পর্যটকদের ভারতীয় নিরামিষ খাবার ও মসলার প্রশংসা

সাওন কাঁওয়ার যাত্রার সময় দেরাদুনের নীলকণ্ঠ পদযাত্রা পথে অস্ট্রেলিয়া ও কলম্বিয়ার পর্যটকেরা ভারতীয় নিরামিষ খাবার ও স্থানীয় মসলার প্রশংসা করেছেন। স্থানীয় খাবারের স্বাদ, মসলার ব্যবহার এবং নিরামিষ পদ তাদের কাছে নতুন ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে উঠে এসেছে।

সাওন কাঁওয়ার যাত্রার সময় দেরাদুনের নীলকণ্ঠ পদযাত্রা পথে পৌঁছানো অস্ট্রেলিয়া ও কলম্বিয়ার পর্যটকেরা ভারতীয় নিরামিষ খাবার ও মসলার প্রশংসা করেছেন। স্থানীয় খাবারের স্বাদ তাদের কাছে অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে।

সাওন কাঁওয়ার যাত্রার সময় উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন জেলার নীলকণ্ঠ পদযাত্রা পথে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত পৌঁছাচ্ছেন। এই ধর্মীয় যাত্রায় অংশ নেওয়া বিদেশি পর্যটকেরাও ভারতীয় সংস্কৃতি ও স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসে প্রভাবিত হচ্ছেন। রাজাজি টাইগার রিজার্ভ অতিক্রম করা এই পথে বহু বিদেশি অতিথি ভারতীয় নিরামিষ খাবারের স্বাদ গ্রহণ করে তার প্রশংসা করেছেন।

অস্ট্রেলিয়া ও কলম্বিয়া থেকে ভারত ভ্রমণে আসা পর্যটকেরা জানান, নীলকণ্ঠ যাত্রার সময় তারা ভারতীয় খাবারের এমন স্বাদ পেয়েছেন, যা তাদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। যাত্রাপথে ক্ষুধার্ত হলে তারা পথের ধারের স্থানীয় খাবারের দোকানে খাবার খেয়ে ভারতীয় মসলার স্বাদের প্রশংসা করেন।

অস্ট্রেলিয়ার পর্যটক অ্যারন জানান, ভারতীয় মসলার স্বাদ তার আগে থেকেই পছন্দ। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়াতেও ভারতীয় রেস্তোরাঁ জনপ্রিয় এবং সেখানে তিনি প্রায়ই ভারতীয় খাবার উপভোগ করেন। তবে ভারতে স্থানীয় পদ্ধতিতে প্রস্তুত নিরামিষ খাবারের স্বাদ তার কাছে আরও বিশেষ মনে হয়েছে।

কলম্বিয়ার পর্যটক জ্যাসমিন বলেন, ভারতীয় খাবারে হলুদ, জিরা, ধনে, গরম মসলা এবং কাঁচা মরিচের সুষম ব্যবহার এটিকে বিশ্বের অন্যান্য খাবার থেকে আলাদা করে। তার মতে, এই খাবার শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং সতেজতা ও তৃপ্তির অনুভূতিও দেয়।

নীলকণ্ঠ পথে পরিচালিত খাবারের দোকানগুলিতে কড়ি, আলু-মটরের তরকারি, ভিন্ডি, রুটি এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী নিরামিষ খাবার বিদেশি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় দোকানদারদের বক্তব্য, প্রতি বছর সাওন মাসে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এখানে আসেন, তবে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে ভারতীয় খাবারের প্রশংসা শোনা তাদের জন্য গর্বের বিষয়।

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরাখণ্ডের ধর্মীয় যাত্রার পাশাপাশি স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতিও বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। এর ফলে স্থানীয় বাণিজ্য উৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের পরিচিতিও বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ভারতীয় মসলা ও নিরামিষ খাবারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি দেখায় যে, ভারতের স্বাদ শুধু দেশের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছেও সমাদৃত হচ্ছে।

Leave a comment