গঙ্গা এক্সপ্রেস-ওয়েতে সংঘটিত এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চার তরুণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, চার বন্ধু লং ড্রাইভে বেরিয়েছিলেন এবং যাত্রাপথে গান শুনছিলেন, আনন্দ-আড্ডায় মেতে ছিলেন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ ভিডিওও তৈরি করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে সংঘর্ষের শব্দ দূর পর্যন্ত শোনা যায়। আশপাশে উপস্থিত লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গুরুতর আহত যুবকদের হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। চারজনের মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই তাদের পরিবারে শোক নেমে আসে। স্বজনেরা গভীর শোকাহত হয়ে পড়েন।
জানা গেছে, নিহত সবাই ব্যবসায়ী ছিলেন এবং একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তারা ঘুরতে বেরিয়েছিলেন এবং কিছু সময় একসঙ্গে কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। যাত্রাপথে তারা গান শুনছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগ পর্যন্ত তারা ভিডিও তৈরি করছিলেন।
পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে। দুর্ঘটনাটি অতিরিক্ত গতির কারণে, গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে অথবা অন্য কোনো কারণে ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা প্রমাণ এবং সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কে গাড়ি চালানোর সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, লাইভ ভিডিও তৈরি করা বা মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ড দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
চার তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যেসব পরিবারে কয়েক ঘণ্টা আগেও স্বাভাবিক পরিবেশ ছিল, সেখানে এখন শোক বিরাজ করছে। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনেরা পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে পৌঁছাচ্ছেন।
গঙ্গা এক্সপ্রেস-ওয়ের এই দুর্ঘটনার পর পুলিশ জনগণকে গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।











