Fruits Tips: ফলে রাসায়নিকের ভয়? বাজার থেকে আনার পর এই ৫ উপায়ে পরিষ্কার করুন, জানুন সঠিক পদ্ধতি

বাজার থেকে কেনা ফলে ধুলো, ময়লা, জীবাণু বা রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে। চলমান জল, বেকিং সোডা ও অন্যান্য পদ্ধতিতে ফল পরিষ্কারের সঠিক নিয়ম জানুন।

আপেল, আঙুর, পেয়ারা, নাশপাতি থেকে কমলালেবু—ফল স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু বাজার থেকে ফল কিনে এনে শুধু একবার জল দিয়ে ধুয়ে খেলেই কি যথেষ্ট? ফলের বাইরের অংশে মাটি, ধুলো, জীবাণু কিংবা কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে। তাই ফল খাওয়ার আগে সঠিকভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। জেনে নিন ফল পরিষ্কারের ৫টি সহজ পদ্ধতি।

চোখে দেখে বোঝা যায় না ফলে রাসায়নিক রয়েছে কি না

কোনও ফল চকচকে দেখাচ্ছে বা অনেকক্ষণ টাটকা রয়েছে বলেই তাতে ফরমালিন বা নির্দিষ্ট কোনও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। খালি চোখে ফলের গায়ে কীটনাশক বা অন্য রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়।তাই ‘ফরমালিন মুক্ত’ করার বদলে ফল পরিষ্কারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বাইরের ময়লা, জীবাণু এবং পৃষ্ঠে থাকা কিছু রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ যতটা সম্ভব কমানো।

চলমান জলে ভালোভাবে ধুয়ে নিন

ফল পরিষ্কারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ এবং প্রয়োজনীয় অভ্যাস হল পরিষ্কার চলমান জলের নিচে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া। শুধু ফলের উপর জল ঢেলে দিলেই হবে না। হাত দিয়ে আলতোভাবে ঘষে ফলের বাইরের পুরো অংশ পরিষ্কার করুন।আপেল, পেয়ারা বা নাশপাতির মতো শক্ত খোসার ফল হলে একটু সময় নিয়ে ধোয়া ভালো। ফল কাটার আগেই বাইরের অংশ পরিষ্কার করে নিলে হাত বা ছুরির মাধ্যমে বাইরের ময়লা ফলের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমে।

লবণ জলে ভেজানোর প্রচলন রয়েছে, তবে সতর্ক থাকুন

অনেক বাড়িতেই ফল পরিষ্কার করতে লবণ জল ব্যবহার করা হয়। পরিষ্কার জলে সামান্য লবণ মিশিয়ে ফল কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখার এই পদ্ধতি প্রচলিত।তবে লবণ জল সব ধরনের কীটনাশক বা রাসায়নিক সম্পূর্ণ দূর করে দেয়—এমন নিশ্চয়তা নেই। এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে পরে ফলকে পরিষ্কার চলমান জলে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

বেকিং সোডার দ্রবণ ব্যবহার করা যায়

ফলের পৃষ্ঠে থাকা কিছু নির্দিষ্ট কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ কমানোর ক্ষেত্রে বেকিং সোডার দ্রবণ নিয়ে গবেষণা হয়েছে। বিশেষ করে শক্ত খোসার ফলের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে।তবে বেকিং সোডা ব্যবহার করলেই সব ধরনের রাসায়নিক সম্পূর্ণ দূর হয়ে যাবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ব্যবহার করার পর ফল পরিষ্কার জলে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

ভিনিগার ব্যবহার করলেও পরে ধুয়ে নিন

ফল পরিষ্কারের জন্য ভিনিগার ব্যবহারের পরামর্শও অনেক সময় দেওয়া হয়। ভিনিগার কিছু ধরনের জীবাণু কমাতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু এটিকে কীটনাশক বা ফরমালিন দূর করার নিশ্চিত উপায় হিসেবে ধরা উচিত নয়।ভিনিগার ব্যবহার করলে শেষে পরিষ্কার চলমান জলে ফল ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এতে ফলের গায়ে ভিনিগারের গন্ধ বা স্বাদ থাকার সম্ভাবনাও কমে।

দরকার হলে খোসা ছাড়িয়ে খান

কিছু ফল খোসা ছাড়িয়ে খেলে বাইরের স্তরে থাকা নির্দিষ্ট কিছু অবশিষ্টাংশের সংস্পর্শ কমতে পারে। তবে ফলের খোসায় ফাইবারসহ নানা পুষ্টি উপাদানও থাকতে পারে। তাই ফলের ধরন অনুযায়ী খোসাসহ খাবেন নাকি খোসা ছাড়াবেন, তা ঠিক করা যেতে পারে।তবে খোসা ছাড়ানোর আগেও ফল ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। এতে কাটার সময় বাইরের ময়লা ফলের ভেতরের অংশে চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

ফল পরিষ্কার করার সময় সাবান ব্যবহার করবেন না

ফল ধোয়ার সময় সাবান, ডিটারজেন্ট বা ঘর পরিষ্কারের রাসায়নিক ব্যবহার করা উচিত নয়। এগুলি খাবারের জন্য তৈরি নয় এবং ফলের গায়ে অবশিষ্ট থাকলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকতে পারে।ফল কাটার আগে হাত, ছুরি ও কাটিং বোর্ডও পরিষ্কার করে নিন। বাজার থেকে আনার পর ফল পরিষ্কার করে শুকিয়ে পরিচ্ছন্ন জায়গায় রাখলে খাবারের নিরাপত্তা বজায় রাখা সহজ হয়।

বাজার থেকে কেনা ফলের গায়ে ধুলো, ময়লা, জীবাণু এবং কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের কিছু অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে। তাই খাওয়ার আগে ফল ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। চলমান জলে ধোয়া, প্রয়োজনে বেকিং সোডার দ্রবণ ব্যবহার কিংবা কিছু ফলের খোসা ছাড়িয়ে খাওয়ার মতো কয়েকটি পদ্ধতি কাজে লাগানো যায়। তবে কোনও ঘরোয়া পদ্ধতিকেই ফরমালিন বা সব ধরনের রাসায়নিক সম্পূর্ণ দূর করার নিশ্চিত উপায় বলা যায় না।

Leave a comment