G7 দেশগুলি জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাদের জরুরি তেল মজুত থেকে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে জ্বালানির দামে ওঠানামার মধ্যে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (IEA) মাধ্যমে এই তেল বাজারে সরবরাহ করা হবে।
বিশ্বের প্রধান শিল্পোন্নত দেশগুলির গোষ্ঠী G7-এর সদস্যরা বর্তমান জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (IEA) মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করা হবে। এর উদ্দেশ্য বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ বজায় রাখা এবং দামে অতিরিক্ত ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা।
G7-এর যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, তেলের প্রাপ্যতা ও সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে দেশগুলি আশ্বাস দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, এমন অতিরিক্ত জ্বালানি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে তারা বিরত থাকবে।
তেল মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও ডিজেলের বাড়তে থাকা দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে তাদের জরুরি ডিজেল মজুত ব্যবহারের দাবি জানিয়েছিল। মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি ছিল, অতিরিক্ত জ্বালানি বাজারে এলে সরবরাহের চাপ কমতে পারে। অন্যদিকে, জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করার সম্ভাব্য সতর্কবার্তা ইউরোপীয় দেশগুলির উদ্বেগ বাড়িয়েছিল। ইউরোপের জ্বালানি চাহিদায় মার্কিন ডিজেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নিলে ইউরোপের জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য সংকট এড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন আরও বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের বাড়তে থাকা দাম সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি পরিবহন ও পণ্য পরিবহন ক্ষেত্রের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৬.৩৭ ডলার। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন ৬.৫২ ডলারের রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছিল।
ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু গাড়িচালকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ট্রাক পরিবহন, কৃষি, উৎপাদন এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো একাধিক ক্ষেত্র ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পণ্যের দাম এবং মূল্যস্ফীতিতেও পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরির একটি পদক্ষেপ। তবে এর প্রকৃত প্রভাব বিশ্বব্যাপী চাহিদা, তেল উৎপাদন, পরিবহন ব্যবস্থা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও নির্ভর করবে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের সময় কৌশলগত তেল মজুত এর আগেও ব্যবহার করা হয়েছে। মার্চে ইরান যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার নেতৃত্বে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার বিষয়ে সম্মতি হয়েছিল। এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সমন্বিত জরুরি তেল ছাড়ার ঘটনা হিসেবে দেখা হয়েছিল।
কৌশলগত তেল মজুতের প্রধান উদ্দেশ্য যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সরবরাহে বাধা বা অন্যান্য অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সময় জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। সাধারণ বাজার ব্যবস্থার ওপর অসাধারণ চাপ তৈরি হলে সাধারণত এই মজুত ব্যবহার করা হয়।
G7-এর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও একই কৌশলের অংশ। তবে তেল মজুত ছাড়লে জ্বালানির দামে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী পতনের নিশ্চয়তা থাকে না। বাজারের প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে অতিরিক্ত তেল কত দ্রুত সরবরাহ করা হয় এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানির চাহিদার পরিস্থিতি কী থাকে।












