একদিনেই গঙ্গার গর্ভে কয়েকশো মিটার জমি! ভুতনিতে ভয়াবহ ভাঙন, স্থায়ী সমাধান নিয়ে বড় ঘোষণা বিধায়কের

মালদহের ভুতনি দ্বীপে গঙ্গার ভয়াবহ ভাঙনে একদিনেই কয়েকশো মিটার এলাকা নদীগর্ভে। বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় আতঙ্কে বাসিন্দারা। ১৬৩ কিমি স্থায়ী ভাঙন রোধ প্রকল্প নিয়ে কী জানালেন বিধায়ক, পড়ুন বিস্তারিত।

বর্ষার জলে ফুলেফেঁপে উঠেছে গঙ্গা, আর তার সঙ্গেই নতুন করে বিপদের মুখে মালদহের ভুতনি দ্বীপ। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকশো মিটার এলাকা গঙ্গার গ্রাসে চলে যাওয়ায় আতঙ্কে হাজার হাজার মানুষ। কৃষিজমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ। এই পরিস্থিতিতে স্থায়ী ভাঙন রোধে বড় ঘোষণা করেছেন স্থানীয় বিধায়ক।

গঙ্গার জল বাড়তেই ভয়াবহ ভাঙনের রূপ

মালদহ জেলার মানিকচক ব্লকের ভুতনি দ্বীপে বর্ষা এলেই নদীভাঙনের আতঙ্ক যেন নিত্যসঙ্গী। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কেশরপুর কলোনি এলাকা, যেখানে মাত্র একদিনেই কয়েকশো মিটার অংশ গঙ্গার গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। বহু বিঘা উর্বর কৃষিজমিও নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত স্থানীয় কৃষকদের।

জলস্তর এখনও বিপদসীমার নিচে, তবুও বাড়ছে উদ্বেগ

জেলা সেচ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গার বর্তমান জলস্তর ২৩.৫২ মিটার, যা বিপদসীমার থেকে ১.১৭ মিটার নিচে রয়েছে। অন্যদিকে ফুলহার নদীর জলস্তর ২৫.৮০ মিটার, যা বিপদসীমার ১.৬৩ মিটার নিচে। যদিও দুই নদীর জলস্তরই ক্রমশ বাড়ছে, ফলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা।

প্রতি বছর একই দুর্ভোগ, ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা

ভুতনি দ্বীপের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। প্রতি বর্ষাতেই বন্যা ও নদীভাঙনের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা পাঁচু চৌধুরীর অভিযোগ, অস্থায়ীভাবে বালির বস্তা বা বাঁশ দিয়ে কাজ করলেও দীর্ঘমেয়াদে কোনও লাভ হচ্ছে না। তাঁর দাবি, স্থায়ী কংক্রিটের ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা না হলে প্রতি বছরই মানুষকে একই দুর্ভোগের শিকার হতে হবে।

রাতের ঘুম উড়েছে নদীপাড়ের মানুষের

স্থানীয়দের বক্তব্য, গত কয়েক বছর ধরে দফায় দফায় ভাঙনের ফলে বহু পরিবার জমি ও বসতভিটা হারিয়েছে। নদীর ধারে বসবাসকারী মানুষের কাছে বর্ষা মানেই আতঙ্ক। তাঁদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করে জীবন ও জীবিকা রক্ষায় উদ্যোগী হোক প্রশাসন।

স্থায়ী সমাধান নিয়ে কী বললেন বিধায়ক?

স্থানীয় বিধায়ক গৌড় চন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে ইতিমধ্যেই ১৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জল নেমে গেলে আগামী বছর থেকে প্রায় ১৬৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মালদহের মানিকচকের ভুতনি দ্বীপে গঙ্গার জলস্তর বাড়তেই ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। কেশরপুর কলোনি এলাকায় একদিনেই কয়েকশো মিটার এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় আতঙ্কে বাসিন্দারা। জরুরি কাজ শুরু হলেও আগামী বছর থেকে ১৬৩ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী ভাঙন রোধ প্রকল্পের আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক।

Leave a comment