গঙ্গাসাগর মেলা শেষ হতে না হতেই পরের বছরের প্রস্তুতি শুরু করে দিল প্রশাসন। ২০২৭ সালের মেলাকে আরও সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কাকদ্বীপে বসে প্রথম প্রস্তুতি বৈঠক। বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। মেলার পরিকাঠামো থেকে যাতায়াত—সব দিক খতিয়ে দেখে আগেভাগেই কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মেলা নিয়ে আগাম প্রস্তুতি, প্রতিটি দফতরকে বিশেষ দায়িত্ব
আগামী বছরের গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে কোন দফতর কীভাবে কাজ করবে, তার একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলিকে নিজেদের দায়িত্ব অনুযায়ী বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনের লক্ষ্য, মেলা শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত কাজগুলি অনেকটাই এগিয়ে রাখা।
জাতীয় মেলার স্বীকৃতির অপেক্ষা
গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দেওয়ার দাবিও ফের সামনে এসেছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই স্বীকৃতির জন্য কেন্দ্রের কাছে একাধিকবার আবেদন পাঠানো হয়েছে। ফলে ২০২৭ সালের মেলার প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতীয় মেলার স্বীকৃতি পাওয়া যায় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে প্রশাসনের।
মুড়িগঙ্গায় তৃতীয় চ্যানেলের ভাবনা
গঙ্গাসাগর মেলার সময় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে মুড়িগঙ্গা নদীতে ভেসেল পরিষেবা। বিশেষ করে ভাটার সময় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বর্তমানে থাকা দুটি চ্যানেলের পাশাপাশি আরও একটি চ্যানেল তৈরির প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।সেচ দফতরকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার কিংবা বাইরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে তৃতীয় চ্যানেল তৈরির সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে।

সমুদ্রসৈকতের ভাঙন নিয়ে চিন্তা
গঙ্গাসাগরের সমুদ্রসৈকতের ভাঙনও প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বর্ষার শুরুতেই কপিলমুনি মন্দির সংলগ্ন সৈকতের কিছু অংশে ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা দিয়েছে। মেলার আগে পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয়, তার জন্য নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মেলার আগেই কপিলমুনি মন্দির সংলগ্ন সৈকত সংস্কার
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা জানান, আগামী দিনের কাজের একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হয়েছে। মেলা শুরুর আগেই কপিলমুনি মন্দিরের সামনের সমুদ্রসৈকত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।পাশাপাশি ভবিষ্যতে কচুবেড়িয়া এবং লট ৮ এলাকায় স্থায়ী ঘাট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। সেখানে আরতির ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের লক্ষ্য কী?
আগেভাগে প্রস্তুতি শুরু করার মূল লক্ষ্য হল মেলার সময় শেষ মুহূর্তের চাপ কমানো। ভেসেল পরিষেবা, নদীপথ, সৈকত, ঘাট এবং তীর্থযাত্রীদের সুবিধা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আগে থেকে পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে চাইছে প্রশাসন।

South 24 Parganas News: ২০২৭ সালের গঙ্গাসাগর মেলাকে সামনে রেখে প্রায় পাঁচ মাস আগেই প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। কাকদ্বীপে হয়েছে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। মেলা পরিচালনা, মুড়িগঙ্গায় ভেসেল চলাচল, সমুদ্রসৈকতের ভাঙন মোকাবিলা এবং জাতীয় মেলার স্বীকৃতি—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।







