কুয়েত বিমানবন্দর হামলার পর ইরানকে ঘিরে GCC-এর নিন্দা, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানব করেছে। ঘটনায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত ও বহু মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান, উপসাগরীয় দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও লেবাননকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার বিভিন্ন দিক এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কথিত ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC) হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে “কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ড” বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের ঘটনা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুতর হুমকি।

GCC-ভুক্ত দেশ কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথভাবে ইরানের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে বিমানবন্দরের টার্মিনালের ক্ষতি হয় এবং একাধিক যাত্রী আহত হন। ঘটনায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হয়, যার ফলে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন ব্যাহত হয়।

কুয়েত প্রশাসন হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে যে হামলার লক্ষ্য ছিল বেসামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোর ক্ষতি সাধন। তবে হামলার দায় স্বীকারের প্রশ্নে ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে।

কুয়েত এই ঘটনাকে গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরান সতর্কবার্তায় বলেছে, কোনো উপসাগরীয় দেশের ভূখণ্ড তার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করা হলে তারা পাল্টা হামলা চালাবে। তেহরান জানিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশ ও ইসরায়েলকে সামরিক সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে, যা তাদের মতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।

GCC এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। পরিষদের মহাসচিব বলেছেন, এ ধরনের হামলা অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে।

উপসাগরীয় দেশগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ করা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তার নিজের ছিল। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তাকে কেউ প্রভাবিত করেনি।

ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করেননি। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

আঞ্চলিক সংকটের মধ্যে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার উত্তেজনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ একাধিক হামলার দাবি করেছে, আর ইসরায়েল পাল্টা সামরিক অভিযান জোরদার করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। এই সমঝোতার পর বৈশ্বিক তেলের বাজারে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অঞ্চলে উত্তেজনা কমলে অপরিশোধিত তেলের দামে আরও স্থিতিশীলতা আসতে পারে। বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন, কারণ বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার সহযোগীদের বলেছেন যে, ইরান-সংশ্লিষ্ট হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত হলে তিনি যুদ্ধবিরতি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল বৃহত্তর যুদ্ধ এড়ানো এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকে কেন্দ্রীভূত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটন বর্তমানে “কন্ট্রোলড এসক্যালেশন” নীতি অনুসরণ করছে।

 

Leave a comment