দেশীয় সরাফা বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সোনা ও রুপোর দামে নরম প্রবণতা দেখা গেছে। ৮ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত সর্বশেষ বাজার প্রবণতা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের দুর্বলতা, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক কৌশলের প্রভাব ভারতীয় বাজারেও প্রতিফলিত হয়েছে। দামের এই পতন দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক অনুকূল মূল্যে কেনার অপেক্ষায় থাকা ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দাম বর্তমান স্তরে স্থিতিশীল থাকলে তা বিয়ে, উৎসব এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা ক্রেতাদের জন্য একটি সুযোগ হতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে বাজারের দিকনির্দেশনা এবং অর্থনৈতিক সূচকের ওপর নজর রাখা প্রয়োজন।
আজকের লেনদেন পর্বে সোনার দামে পতন রেকর্ড করা হয়েছে এবং রুপোর দামেও দুর্বলতা দেখা গেছে। বাজার সূত্রে জানা গেছে, ৯৯৯ বিশুদ্ধতার (২৪ ক্যারেট) রুপোর দাম প্রতি কিলোগ্রামে প্রায় ₹২,৪৪,৯০০-এর কাছাকাছি লেনদেন হয়েছে, যা আগের লেনদেন সেশনের তুলনায় কম। একই সঙ্গে ২২ ক্যারেট ও ২৪ ক্যারেটসহ বিভিন্ন বিশুদ্ধতার সোনার দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে বিভিন্ন শহর ও স্থানীয় করের কারণে খুচরা মূল্যে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সোনা ও রুপোর দামের পতনের পেছনে একাধিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন মুদ্রানীতি বৈঠককে ঘিরে বাজারের সতর্ক অবস্থান। বিনিয়োগকারীরা সুদের হার সম্পর্কিত সম্ভাব্য ইঙ্গিতের অপেক্ষায় রয়েছেন। সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে সোনার মতো সুদবিহীন বিনিয়োগ সম্পদের চাহিদা প্রভাবিত হতে পারে।
এছাড়া, মার্কিন ডলার সূচকের শক্তিশালী অবস্থানও মূল্যবান ধাতুর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ডলার শক্তিশালী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যার ফলে এর চাহিদা কমতে পারে এবং দামে পতন দেখা দিতে পারে। বৈশ্বিক পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি গ্রহণের পরিবর্তিত কৌশল এবং নিরাপদ বিনিয়োগ বিকল্পের চাহিদার ওঠানামাও সোনা ও রুপোর দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।











