Gold Price Prediction: সোনার দামে বড় পতনের পরেই কি ফের উত্থান? বছর শেষে ১০ গ্রামে ১.৮ লাখের পূর্বাভাস

Gold Price Prediction: সাম্প্রতিক পতনের পর ফের বাড়তে পারে সোনার দাম। বিশেষজ্ঞ অজয় কেডিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছর শেষে ১০ গ্রাম সোনা ১.৮ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

টানা মূল্যবৃদ্ধির পর সম্প্রতি সোনা ও রুপোর বাজারে কিছুটা সংশোধন দেখা গিয়েছে। লাভ তুলে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের প্রভাবেই এই পতন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সামনে উৎসব ও বিয়ের মরশুম থাকায় দেশে সোনার চাহিদা ফের বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে বাজার বিশেষজ্ঞ অজয় কেডিয়ার অনুমান, সেপ্টেম্বরের শেষে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৬ লাখ টাকা এবং ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তা ১.৮ লাখ টাকার স্তর ছুঁতে পারে।

কেন আচমকা কমছে সোনা ও রুপোর দাম?

সাম্প্রতিক সময়ে সোনা ও রুপোর দামে যে পতন দেখা গিয়েছে, তার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দাম বাড়ার পরে কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ায় বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামাও দেশীয় মূল্যকে প্রভাবিত করছে। ফলে সাম্প্রতিক পতনকে বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামার অংশ হিসেবেও দেখছেন বাজারের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা।

সাত দিনে প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে সোনার দাম

এমসিএক্সের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে সাত দিনে সোনার দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে রুপোর দাম কমেছে প্রায় ২ শতাংশ।তিন মাসের হিসাবেও সোনায় প্রায় ৩ শতাংশ এবং রুপোয় প্রায় ৪ শতাংশ পতনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যবান ধাতুর বাজারে কিছুটা সংশোধনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সেপ্টেম্বরের শেষে ১০ গ্রামে ১.৬ লাখ?

সাম্প্রতিক পতনের মধ্যেও অজয় কেডিয়া ভারতীয় বাজারে সোনার চাহিদা নিয়ে আশাবাদী পূর্বাভাস দিয়েছেন। তাঁর মতে, সেপ্টেম্বরের শেষে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৬ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠতে পারে।ভারতে সোনার ব্যবহার শুধুমাত্র বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উৎসব, বিয়ে এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গয়না কেনার প্রবণতার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে চাহিদা বাড়ে। এই বিষয়টিও দামের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উৎসবের মরশুমে বাড়তে পারে চাহিদা

অক্টোবর থেকে উৎসবের মরশুম আরও জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সোনার কেনাকাটা বাড়তে পারে। তার পরেই রয়েছে বিয়ের মরশুম। ফলে গয়নার চাহিদা বাড়লে সোনার বাজারেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।পপলি গ্রুপের ডিরেক্টর রাজীব পপলির বক্তব্য অনুযায়ী, দাম কমার সময় অনেক ক্রেতা সেটিকে কেনাকাটার সুযোগ হিসেবে দেখতে পারেন। উৎসবের পরে যদি বাজারে বড়সড় সংশোধন হয়, সেক্ষেত্রে কেনাকাটার আগ্রহ আরও বাড়তে পারে।

বছরের শেষে ১.৮ লাখ টাকা হতে পারে সোনা?

News18 Tamil-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বিশ্লেষকদের অনুমান অনুযায়ী, উৎসব ও বিয়ের মরশুমে চাহিদা শক্তিশালী থাকলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারও অনুকূল থাকলে বছরের শেষে ১০ গ্রাম সোনার দাম ১.৮ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।একই সঙ্গে রুপোর ক্ষেত্রেও বড় বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রুপোর দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৩ লাখ টাকার স্তরে পৌঁছতে পারে।

তবে এই পূর্বাভাস নিশ্চিত নয়

সোনার দাম ভবিষ্যতে ঠিক কত হবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর, ডলারের মূল্য, সুদের হার, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা—একাধিক কারণ মূল্যবান ধাতুর দামকে প্রভাবিত করে।তাই ১.৬ লাখ বা ১.৮ লাখ টাকার যে সম্ভাব্য দামের কথা বলা হয়েছে, সেটিকে বিশেষজ্ঞের বাজার-অনুমান হিসেবেই দেখা উচিত। বাস্তবে দাম তার থেকে কম বা বেশি—দুই-ই হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে সোনা ও রুপোর দামে কিছুটা পতন দেখা গেলেও আগামী মাসগুলিতে ফের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কেডিয়া অ্যাডভাইজরির ডিরেক্টর অজয় কেডিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৬ লাখ টাকা এবং বছরের শেষে ১.৮ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

Leave a comment