পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে বছরের পর বছর কষ্টে ছিলেন জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির বাসিন্দা ৩৬ বছরের নগেন ভগত। পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়লেও চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে না পারায় অস্ত্রোপচার করানো সম্ভব হচ্ছিল না। সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে অসুস্থ শরীর নিয়েই মুম্বইয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় কার্ড তৈরি হওয়ায় বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করানো সম্ভব হয়েছে।
২০২৩ সাল থেকে পিত্তথলির পাথরের সমস্যা
ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড় আলতা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য খট্টিমারি এলাকার বাসিন্দা নগেন ভগত পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। ২০২৩ সালে হঠাৎ তাঁর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর পর জানা যায়, তাঁর পিত্তথলিতে পাথর রয়েছে।পরিবারের দাবি, সময়ের সঙ্গে সমস্যাটি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে। স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের জন্য লক্ষাধিক টাকা খরচের কথা জানানো হয়েছিল। দিনমজুর পরিবারের পক্ষে সেই টাকা জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
অসুস্থ শরীরেই ফিরে যান মুম্বইয়ে
চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত অসহ্য যন্ত্রণা নিয়েই কাজে ফিরে যেতে হয় নগেনবাবুকে। পেটের তাগিদে তিনি মুম্বইয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ শুরু করেন।পরিবারের তরফে জানা যায়, সেখানে বেশ কয়েক মাস ধরে ব্যথা কমানোর ওষুধ খেয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। এভাবে চলতে চলতে সম্প্রতি তিনি বাড়িতে ফেরেন।
আশা কর্মী ও চিকিৎসকদের উদ্যোগে তৈরি হয় আয়ুষ্মান কার্ড
বাড়ি ফেরার পর স্থানীয় আশা কর্মী ও চিকিৎসকদের নজরে আসে তাঁর শারীরিক সমস্যার বিষয়টি। চিকিৎসার খরচের কারণে অস্ত্রোপচার করাতে না পারার কথা জানতে পেরে তাঁরা উদ্যোগী হন।তাঁদের সহায়তায় নগেন ভগতের নামে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড তৈরির ব্যবস্থা করা হয়। এরপর সেই কার্ডের আওতায় তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়।
বেসরকারি নার্সিংহোমে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার
জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জেনারেল সার্জন ডাঃ সপ্তর্ষি মণ্ডলের তত্ত্বাবধানে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নগেনবাবুর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের মাধ্যমে পিত্তথলিতে থাকা পাথর অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি বিপদমুক্ত বলে জানানো হয়েছে।
আপাতত এক মাস বিশ্রামের পরামর্শ
দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর স্বস্তি ফিরেছে নগেনবাবু ও তাঁর পরিবারের মধ্যে। চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তাঁরা।তবে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে আপাতত সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। অন্তত এক মাস বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন পিত্তথলির পাথরের চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না ধূপগুড়ির পরিযায়ী শ্রমিক নগেন ভগত। অবশেষে স্থানীয় আশা কর্মী ও চিকিৎসকদের উদ্যোগে তৈরি হয় আয়ুষ্মান ভারত কার্ড। সেই কার্ডের মাধ্যমে বেসরকারি নার্সিংহোমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাঁর পিত্তথলির পাথর অপসারণের অস্ত্রোপচার হয়েছে।










