সোনায় ভরসা, রুপোয় নজর—ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের চিরাচরিত এই প্রবণতার মাঝেই বড় চমক। চলতি সপ্তাহে বাজারে সোনা ও রুপোর দামে এক ধাক্কায় বড় পতন দেখা গিয়েছে। দাম কমায় ক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন—কেনার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না দেখলে পরে বিপদে পড়তে পারেন।
বাজারে কেন এত বড় পতন?
২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের পর সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ধাক্কা খায় বুলিয়ন মার্কেট। MCX-এ রুপোর দাম একদিনে প্রতি কিলোগ্রামে প্রায় ১৫ হাজার টাকারও বেশি কমে যায়। একইসঙ্গে ২৪ ক্যারাট সোনার দাম ১০ গ্রামে চার হাজার টাকার বেশি নেমে আসে। আন্তর্জাতিক বাজারে মুনাফা তোলা, ডলার সূচকের ওঠানামা এবং বাজেট-পরবর্তী অনিশ্চয়তাই এই পতনের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দাম কমতেই কেনাকাটার হিড়িক
গত দুই-তিন দিনে সোনা ও রুপোর দাম পড়ে যাওয়ায় বহু ক্রেতা আবার বাজারমুখী হয়েছেন। অনেকের আশঙ্কা—দাম যদি আবার চড়ে যায়, তাহলে এই সুযোগ হাতছাড়া হবে। বিশেষ করে বিয়ের মরশুম শুরু হওয়ায় রুপোর গয়না ও বাসনপত্রের চাহিদা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে।
কেন রুপোর দিকেই ঝুঁকছেন ক্রেতারা?
সোনার তুলনায় রুপো তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির মধ্যে এর জনপ্রিয়তা বেশি। গয়না ছাড়াও বাসন, মূর্তি এবং বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই রুপোর ব্যবহার রয়েছে। দাম পড়ে যাওয়ায় অনেকেই এখন রুপোকে ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন।
রুপো বা সোনা কেনার আগে এই ৫টি বিষয় অবশ্যই দেখুন
হলমার্ক যাচাই করুন
সোনা হোক বা রুপো—বিআইএস হলমার্ক ছাড়া কিছুই কিনবেন না। হলমার্ক বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা দেয় এবং ভবিষ্যতে বিক্রির সময় দাম পেতে সাহায্য করে।
গ্রেড ও বিশুদ্ধতা বুঝে নিন
রুপোর ক্ষেত্রে ৯৯৯ বা ৯৯৯৯ গ্রেড সর্বোচ্চ বিশুদ্ধ, যা বার ও কয়েনের জন্য উপযুক্ত। গয়নার জন্য সাধারণত ৯২৫ (স্টার্লিং সিলভার) ব্যবহার হয়। কোন কাজে কোন গ্রেড দরকার, তা না জানলে ঠকতে পারেন।
তৈরির খরচ আলাদা করে হিসাব করুন
গয়নার দামের সঙ্গে ১০–২০ শতাংশ পর্যন্ত মেকিং চার্জ যোগ হয়। একাধিক দোকানে দাম তুলনা না করলে অযথা বেশি টাকা দিতে হতে পারে।
জার্মান সিলভার থেকে সাবধান
নাম শুনে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। জার্মান সিলভার আসলে খাঁটি রুপো নয়, এটি তামা বা পিতলের উপর প্রলেপ। পুনরায় বিক্রির সময় এতে বড় লোকসান হতে পারে।
সঠিক ও বৈধ বিল নিন
বিলে ওজন, বিশুদ্ধতা, দাম ও জিএসটি স্পষ্টভাবে লেখা আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন। ভবিষ্যতে বিক্রি বা বিনিময়ের সময় এই বিলই আপনার একমাত্র প্রমাণ।
বাজেটের পরপরই সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি একদিকে যেমন কেনাকাটার সুযোগ এনে দিচ্ছে, তেমনই ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ভবিষ্যতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে।













