বাঙালির মাছের পাতে ইলিশের জায়গা আলাদা। কিন্তু মরশুমের শেষ দিকে গঙ্গার ইলিশের দাম বেড়ে গেলে অনেকেরই সাধ থাকলেও সাধ্য থাকে না। এই পরিস্থিতিতে কম খরচে মাছ খাওয়ার বিকল্প হয়ে উঠছে পেংবা। মণিপুরের এই মাছের স্বাদ ও গন্ধে ইলিশের সঙ্গে কিছুটা মিল থাকায় অনেকে একে ‘গরিবের ইলিশ’ বলে ডাকেন। তবে পেংবা ও ইলিশ আলাদা প্রজাতির মাছ—তাই স্বাদ ও গঠনে পুরোপুরি এক বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
কেন পেংবাকে বলা হয় ‘গরিবের ইলিশ’?
ইলিশের মতো স্বাদ ও গন্ধের কিছুটা মিল থাকায় পেংবা মাছের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে ইলিশের দাম যখন বেশি থাকে, তখন তুলনামূলক কম দামের এই মাছ অনেকের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নেয়।
পেংবা মূলত মণিপুরের পরিচিত মাছ। উত্তর-পূর্ব ভারতের খাদ্যসংস্কৃতিতে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গাতেও এই মাছের চাষ হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে বিকল্প মাছ হিসেবে পেংবার উপস্থিতি বাড়ছে।
কেজিপ্রতি কত টাকা পেংবা মাছের দাম?
বাজারে পেংবা মাছের দাম মূলত তার আকার, ওজন, সরবরাহ এবং এলাকার উপর নির্ভর করে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বাজারে এই মাছের খুচরো দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা হতে পারে।
অন্যদিকে, বড় আকারের গঙ্গার ইলিশের দাম অনেক সময় কেজিপ্রতি হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। ফলে কিছু বাজারে পেংবা তুলনামূলক সস্তা বিকল্প হতে পারে। তবে কেনার আগে স্থানীয় বাজারে দর যাচাই করে নেওয়া ভালো।
স্বাদে ইলিশের মতো হলেও কি কাঁটা কম?
পেংবার স্বাদ ও গন্ধে ইলিশের সঙ্গে মিল খুঁজে পান অনেক মাছপ্রেমী। সেই কারণেই মাছটি নিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে ইলিশের মতোই স্বাদ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই—মাছের সতেজতা, আকার এবং রান্নার পদ্ধতির উপরেও স্বাদ নির্ভর করে।
কাঁটার ক্ষেত্রেও মাছটির গঠন ও কাটার ধরন গুরুত্বপূর্ণ। তাই পেংবায় একেবারেই কাঁটা নেই, এমন দাবি করা ঠিক হবে না। খাওয়ার সময় অন্য মাছের মতোই কাঁটার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পেংবা মাছের পুষ্টিগুণ কী?
মাছ প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। পেংবাও দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের জোগান দিতে পারে। মাছের প্রজাতি ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী এতে ফ্যাট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ বদলাতে পারে।
তবে পেংবা খেলেই কোলেস্টেরল কমবে, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমবে কিংবা আলঝাইমার্স প্রতিরোধ হবে—এমন নিশ্চিত দাবি করার মতো তথ্য এখানে নেই। সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই গুরুত্বপূর্ণ।
চাষিদের কাছেও কেন বাড়ছে পেংবার চাহিদা?
পেংবা শুধু ক্রেতাদের নয়, মাছচাষিদেরও আগ্রহ বাড়াচ্ছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে এই মাছ তুলনামূলক কম সময়ে ভালো ওজনে পৌঁছতে পারে। তবে মাছের বৃদ্ধির হার জলাশয়ের পরিবেশ, খাবার, পোনার গুণমান এবং চাষের পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল।
পেংবা চাষের ক্ষেত্রে বড় পুকুর বা জলাশয়ের পাশাপাশি বিশেষ ব্যবস্থায় চৌবাচ্চায় চাষের কথাও উঠে এসেছে। তবে চাষ শুরু করার আগে স্থানীয় মৎস্য দফতর বা অভিজ্ঞ মৎস্যচাষির কাছ থেকে উপযুক্ত পদ্ধতি ও খরচ সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।
ইলিশের বিকল্প হিসেবে পেংবা কিনবেন?
ইলিশের দাম বেশি থাকলে পেংবা একটি বিবেচনাযোগ্য বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে মাছের স্বাদ উপভোগ করতে চাইলে এটি চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তবে কেনার আগে মাছের সতেজতা, গন্ধ, চোখ ও গিলের অবস্থা দেখে নিন এবং বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে মাছ কিনুন।
ইলিশের মরশুম শেষের দিকে, আর সেই সঙ্গে বাজারে গঙ্গার ইলিশের দামও চড়ছে। ফলে অনেকেরই পাতে ইলিশ তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা বাড়ছে পেংবা মাছের। মণিপুরের এই মাছকে অনেকে ‘মণিপুরী ইলিশ’ বা ‘গরিবের ইলিশ’ বলে চেনেন। বাজারে আকারভেদে কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা দামে মিলতে পারে এই মাছ। স্বাদ, দাম ও পুষ্টিগুণের কারণে বাঙালি ক্রেতাদের নজর কাড়ছে পেংবা।











