উত্তরাখণ্ড কংগ্রেসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াতের ধন্যবাদ ও জনসংবাদ যাত্রাকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। রাওয়াতের সঙ্গে প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি ও বিধায়ক প্রীতম সিংসহ একাধিক কংগ্রেস নেতা অংশ নিলেও প্রদেশ সংগঠনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতা এই কর্মসূচি থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন।
উত্তরাখণ্ডে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের মধ্যে সংগঠন ও নেতৃত্ব নিয়ে মতপার্থক্য নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত ধন্যবাদ ও জনসংবাদ যাত্রা শুরু করেছেন। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ব্যক্তিগত বা সমান্তরাল প্রচার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এর পরেও রাওয়াত কুমায়ুন অঞ্চলে তাঁর যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। সোমবার যশপুর থেকে হলদ্বানি পর্যন্ত তাঁর যাত্রায় একাধিক প্রবীণ নেতা ও সমর্থককে দেখা যায়।
রাওয়াতের সঙ্গে প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি ও বিধায়ক প্রীতম সিংসহ একাধিক কংগ্রেস নেতা ছিলেন। অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গণেশ গোদিয়াল এবং আরও কয়েকজন প্রবীণ নেতা এই যাত্রা থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন বলে খবর। এর ফলে দলের বিভিন্ন নেতার অবস্থান নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে। তবে কোনও নেতার কোনও যাত্রায় উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিকে নিজে থেকেই আনুষ্ঠানিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
হরিশ রাওয়াতের যাত্রা নিয়ে কংগ্রেসের উত্তরাখণ্ডের প্রদেশ প্রভারি কুমারী সেলজা এর আগে তাঁকে যাত্রা বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছিলেন। এরপর কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেণুগোপাল রাওয়াতের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সব নেতাকে সঙ্গে নিয়ে দলের প্রচার এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। বেণুগোপাল স্পষ্ট করেন যে উত্তরাখণ্ডে ব্যক্তিগত প্রচারের পরিবর্তে দলের সংগঠনের নির্ধারিত যৌথ কর্মসূচি হবে।

কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, নির্বাচনী রাজ্যে প্রচার দলের ব্যানার এবং যৌথ নেতৃত্বে হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই অবস্থান সামনে আসার পর রাওয়াতের যাত্রা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা আরও বেড়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর রাওয়াতের দিল্লি গিয়ে দলের নেতৃত্বের সামনে নিজের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে।
হরিশ রাওয়াতের যাত্রার সময় প্রীতম সিং, তিলক রাজ বেহড়, হরিশ ধামি এবং আদেশ চৌহানসহ একাধিক নেতাকে তাঁর সঙ্গে দেখা যায়। প্রাক্তন বিধানসভা স্পিকার গোবিন্দ সিং কুঞ্জওয়াল, প্রাক্তন বিধায়ক এবং অন্যান্য প্রবীণ নেতারাও যাত্রায় অংশ নেন। রাওয়াত এই কর্মসূচিকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রাওয়াতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই যাত্রাকে দলের কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করেননি। তবে কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও কর্মী এতে অংশ নিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে দলীয় সংগঠন এবং ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এখন কংগ্রেসের অভ্যন্তরে রাওয়াতের দিল্লি সফর এবং দলের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের দিকে নজর রয়েছে। বেণুগোপাল এবং কুমারী সেলজার সঙ্গে রাওয়াতের বৈঠকে তাঁর যাত্রা এবং রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনী কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বর্তমানে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যৌথ নির্বাচনী কর্মসূচির ওপর জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে, রাওয়াত তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তার মাধ্যমে সমর্থক ও কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। আগামী দিনে দলীয় নেতৃত্ব এবং রাওয়াতের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে তাঁর জনসংবাদ যাত্রা কীভাবে চলবে এবং দলের বৃহত্তর নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে তা কীভাবে যুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।










