নয়াদিল্লি: Mission 2029-এর প্রস্তুতিকে সামনে রেখে কংগ্রেস সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে আলোচনা শুরু করেছে। দলের কেন্দ্রীয় বৈঠকে সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, কে সি বেণুগোপালসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বুথ থেকে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করা, আসন্ন নির্বাচনের কৌশল এবং ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি Mission 2029-এর প্রস্তুতিতে সাংগঠনিক স্তরে আলোচনা শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় স্তরের এই বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতিরাও অংশ নেন। আসন্ন নির্বাচনের জন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং তৃণমূল স্তরে দলের কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়টি বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল।
বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, কে সি বেণুগোপাল এবং দলের বিভিন্ন ফ্রন্টের সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন। নেতারা সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচনী কৌশল এবং জনসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দলের প্রচারাভিযান নিয়ে আলোচনা করেন।
Mission 2029-এর আওতায় কংগ্রেস সংগঠনকে তৃণমূল স্তরে আরও সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। বৈঠকে বুথ থেকে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি কেশব মহতো কমলেশ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে রাজ্য সংগঠনের কার্যক্রম এবং এখনও পর্যন্ত অগ্রগতির রিপোর্ট পেশ করেন। তিনি সংগঠন সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরেন।
ঝাড়খণ্ডে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত সংগঠন সম্প্রসারণ, কর্মীদের সক্রিয় করা এবং স্থানীয় জনসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিকে দলের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে রাজ্য সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে Special Intensive Revision বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের কার্যক্রম নিয়েও বিশেষ আলোচনা হয়। প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে Booth Level Agent-2 বা BLA-2 গঠন এবং তাঁদের সক্রিয় করার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়।
ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত বিষয়গুলির ধারাবাহিকভাবে নজরদারি করা এবং যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকায় নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়। দলের সংগঠনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর নজর রাখবেন এবং প্রয়োজনীয় বিষয় সংগঠনের নজরে আনবেন।
ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, SIR প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত কার্যক্রমের রাজ্য স্তরে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জেলা স্তরেও পদাধিকারী ও কর্মীদের এই বিষয়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ অনুযায়ী কংগ্রেসের প্রদেশ সদর দফতর থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত সংগঠনে পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও এগোতে পারে। ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি কেশব মহতো কমলেশ দিল্লি থেকে ফিরে আসার পর সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
দলের অভ্যন্তরে একাধিক জেলার কংগ্রেস কমিটিতে পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। জেলা সভাপতি, জেলা প্রভারী এবং প্রদেশ পদাধিকারীদের সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সময়ে সংগঠনের কাঠামো আরও কার্যকর করার জন্য কয়েকটি স্তরে দায়িত্বে পরিবর্তন করা হতে পারে।
Mission 2029-এর প্রস্তুতিতে কংগ্রেস তৃণমূল স্তরের কর্মীদের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। স্থানীয় বিষয়গুলিতে কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে পঞ্চায়েত ও বুথ স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
ঝাড়খণ্ডে প্রদেশ সংগঠনের পক্ষ থেকে জনসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আগামী সময়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশের ভিত্তিতে সাংগঠনিক কর্মসূচি এবং জেলা স্তরে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হতে পারে।










