স্বাধীনতা দিবসের আগে হজারিবাগে তিরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করা হয়। কুর্জন গ্রাউন্ড থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা শহরের বিভিন্ন পথ অতিক্রম করেন এবং ভারত মাতার জয় ও বন্দে মাতরম স্লোগান দেন।
তিরঙ্গা যাত্রার আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল ‘হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান’-এর বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। স্থানীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, হজারিবাগের কুর্জন গ্রাউন্ড স্টেডিয়াম থেকে যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণের কথা জানানো হয়েছিল।
যাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে জাতীয় পতাকা ছিল। কয়েকজন তিরঙ্গার রঙের পোশাক পরেও উপস্থিত হন। যুবকদের পাশাপাশি প্রবীণ এবং অন্যান্য শ্রেণির মানুষও এতে অংশ নেন। যাত্রা এগিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনও তা স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক মানুষকে নিজেদের বাড়িতে তিরঙ্গা উত্তোলনের আবেদন জানান। তিনি বলেন, তিরঙ্গা শুধু একটি পতাকা নয়, এটি দেশের আন, বান ও শানের প্রতীক। জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দেশের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালন করা উচিত।
বিধায়ক স্বাধীনতা দিবসে প্রতিটি বাড়িতে তিরঙ্গা উত্তোলন করে দেশের প্রতি দায়িত্ব ও সম্মান প্রকাশের আবেদন জানান। তিনি যুবকদেরও অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় উৎসব শুধু এক দিনের উদযাপন নয়, বরং দেশের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার সুযোগও দেয়।
তিরঙ্গা যাত্রার সময় ভারত মাতার জয় এবং বন্দে মাতরম স্লোগান দেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে যাত্রাটি শহরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে এগিয়ে যায়। অংশগ্রহণকারীরা হাতে তিরঙ্গা নিয়ে দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারের কথা জানান।
স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশজুড়ে ‘হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান’-এর আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ১৫ আগস্ট গর্ব ও সম্মানের সঙ্গে উদযাপন করার পাশাপাশি এই অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য মানুষের কাছে আবেদন করেছেন।
হজারিবাগের তিরঙ্গা যাত্রার উদ্দেশ্যও এই জনসম্পৃক্ততা আরও শক্তিশালী করা। আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল আরও বেশি মানুষকে অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করা এবং নিজেদের বাড়িতে তিরঙ্গা উত্তোলনে উৎসাহিত করা। যাত্রার মাধ্যমে বিশেষ করে যুবকদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মানের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষজন জানান, স্বাধীনতা দিবসের আগে এই ধরনের যাত্রার মাধ্যমে শহরে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। জাতীয় পতাকা নিয়ে একসঙ্গে যাত্রায় অংশ নেওয়াকে তাঁরা গৌরবের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। কয়েকজন জানান, ১৫ আগস্ট তাঁরা নিজেদের বাড়িতে তিরঙ্গা উত্তোলন করবেন এবং আশপাশের মানুষকেও এর জন্য উৎসাহিত করবেন।
তিরঙ্গা যাত্রার সময় শহরের বিভিন্ন অংশে মানুষের যাতায়াত বেড়ে যায়। যাত্রাপথে নিরাপত্তা ও যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ একই সঙ্গে রাস্তায় নামায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
অনুষ্ঠানে যুবকদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে দেখা যায়। হাতে তিরঙ্গা নিয়ে তাঁরা যাত্রায় অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে যুবকদের দেশের উন্নয়নে নিজেদের ভূমিকা পালন এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়।
তিরঙ্গা যাত্রার মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ এবং তাঁদের অবদান থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ফলেই স্বাধীনতা এসেছে। তাই এর মর্যাদা এবং জাতীয় প্রতীকগুলির সম্মান করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
হজারিবাগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের আগে শহরে উৎসব ও দেশপ্রেমের পরিবেশ তৈরি হয়। মানুষ তিরঙ্গা হাতে যাত্রায় অংশ নিয়ে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলিতে ‘হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান’-এ আরও বেশি মানুষ যুক্ত হবেন।










