বর্ষায় নদীর জল যখন ফুলেফেঁপে ওঠে, তখন তার স্রোতের সৌন্দর্য দেখার মজাই আলাদা। তার সঙ্গে যদি থাকে সবুজে ঘেরা পরিবেশ, নদীর পাড় আর দুই নদীর সঙ্গমস্থল, তাহলে ছোট্ট ছুটিও হয়ে উঠতে পারে স্মরণীয়। এমনই এক কাছের গন্তব্য হল হাওড়ার গড়চুমুক ও উলুঘাটা। কলকাতা থেকে খুব দূরে না গিয়েও এখানে উপভোগ করা যায় বর্ষার প্রকৃতি।
৫৮ গেটের জলস্রোত দেখতেই ভিড়
এই সফরের অন্যতম আকর্ষণ উলুঘাটা ৫৮ গেট স্লুইস। ৫৮টি লকগেট নিয়ে তৈরি এই বিশাল জলনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বর্ষায় আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। গেট দিয়ে জলের স্রোত নেমে আসার দৃশ্য এবং চারপাশের বিস্তীর্ণ জলরাশি পর্যটকদের নজর কাড়ে।বাঁধের উপর দিয়ে পাকা রাস্তা চলে গিয়েছে। সেই রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি হেঁটেও আশপাশের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। তবে প্রবল স্রোতের সময় নদীর ধারে বা গেটের একেবারে কাছে না যাওয়াই নিরাপদ।
গড়চুমুক মিনি জু-তে পরিবার নিয়ে ঘুরুন
৫৮ গেটের কাছেই রয়েছে গড়চুমুক মিনি জু। পরিবার ও শিশুদের নিয়ে গেলে এই জায়গাটি বেশ উপভোগ্য হতে পারে। এখানে বিভিন্ন ধরনের পাখি, ময়ূর, হরিণ, অজগর-সহ বেশ কিছু প্রাণী দেখা যায়।সবুজে ঘেরা পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোর পাশাপাশি শিশুদের জন্য এটি শিক্ষামূলক ভ্রমণের সুযোগও তৈরি করে। সম্প্রতি জায়গাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে সাজানো হয়েছে বলে স্থানীয় পর্যটকদের আগ্রহও বেড়েছে।
দুই নদীর মিলনস্থলে বর্ষার অন্যরকম সৌন্দর্যগড়চুমুকের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ দামোদর ও ভাগীরথীর সঙ্গমস্থল। যেখানে দামোদর এসে ভাগীরথীতে মিশেছে, বর্ষায় সেই জায়গার দৃশ্য বেশ মনোরম হয়ে ওঠে।নদীর জল বেড়ে গেলে স্রোতের তীব্রতাও চোখে পড়ে। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে তাই বর্ষাকালে এই জায়গাটি বিশেষ আকর্ষণীয়। শীতের সময়ে আবার নদীর চর ও জলপথকে ঘিরে পিকনিক এবং নৌকাবিহারের জন্য পর্যটকদের ভিড় বাড়ে।
বেলারি গ্রামে মিলবে নিরিবিলি পরিবেশ
গড়চুমুকের কাছেই রয়েছে বেলারি গ্রাম। শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে এই গ্রাম ঘুরে দেখা যেতে পারে।গ্রামীণ রাস্তা, নদীর পাড় এবং ছায়াঘেরা পরিবেশে ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে ছুটির সময় কাটানো যায়। প্রকৃতির কাছাকাছি কয়েক ঘণ্টা থাকতে চাইলে এই জায়গাটিও ভ্রমণ তালিকায় রাখতে পারেন।
কীভাবে যাবেন গড়চুমুক?
হাওড়া থেকে লোকাল ট্রেনে উলুবেড়িয়া বা বাগনান স্টেশনে পৌঁছনো যায়। স্টেশনের বাইরে থেকে গড়চুমুক ও ৫৮ গেটের দিকে যাওয়ার বাস বা অটো পাওয়া যায়।নিজস্ব গাড়ি বা বাইকে গেলে NH-16 ধরে উলুবেড়িয়া হয়ে শ্যামপুর রোড ধরে গড়চুমুকের দিকে যাওয়া যায়। যাওয়ার আগে স্থানীয় পরিবহণের সময়সূচি এবং পর্যটনকেন্দ্রের বর্তমান খোলার সময় জেনে নেওয়া ভালো।
কলকাতার কাছেই বর্ষায় প্রকৃতির অন্যরকম রূপ দেখতে চাইলে হাওড়ার গড়চুমুক ও উলুঘাটা হতে পারে আদর্শ উইকএন্ড ডেস্টিনেশন। ৫৮ গেটের জলধারা, দামোদর-ভাগীরথীর সঙ্গম, মিনি জু, নদীর পাড় এবং গ্রামীণ পরিবেশ—সব মিলিয়ে এক সফরেই মিলবে নানা অভিজ্ঞতা।













