PCOD বা PCOS-এর নাম শুনলেই অনেক মহিলার মনে প্রথম যে প্রশ্নটি আসে—এই সমস্যা থাকলে কি মা হওয়া সম্ভব? বাস্তবে এই অবস্থার সঙ্গে সন্তানধারণের সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায় না। রোগের তীব্রতা, ডিম্বস্ফোটনের নিয়মিততা, ওজন এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য—সবকিছুর উপর বিষয়টি নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞের মতে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে অনেক ক্ষেত্রেই গর্ভধারণ সম্ভব।
PCOD আর PCOS কি একই?
PCOD বা Polycystic Ovarian Disease এবং PCOS বা Polycystic Ovary Syndrome-কে অনেক সময় একই বলে মনে করা হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। PCOS একটি হরমোন ও বিপাকীয় সমস্যা, যার সঙ্গে অনিয়মিত ঋতুস্রাব, ডিম্বস্ফোটনের সমস্যা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ওজনের পরিবর্তনসহ একাধিক বিষয় যুক্ত থাকতে পারে।অন্যদিকে PCOD শব্দটি সাধারণত ডিম্বাশয় ও হরমোনের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই দুটির নাম কাছাকাছি হলেও একেবারে সমার্থক নয়।
PCOD থাকলে কি সন্তানধারণ সম্ভব?
হ্যাঁ, PCOD বা PCOS থাকলেও গর্ভধারণ সম্ভব। এই সমস্যায় মূল বাধা অনেক সময় হয় অনিয়মিত ডিম্বস্ফোটন। নিয়মিতভাবে ডিম্বাণু বের না হলে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমতে পারে।তবে এর অর্থ বন্ধ্যাত্ব নয়। রোগের মাত্রা কম হলে এবং ডিম্বস্ফোটন মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলে অনেকেরই স্বাভাবিকভাবেই গর্ভধারণ হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসার সাহায্যেও ডিম্বস্ফোটন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
গর্ভাবস্থায় কী ঝুঁকি থাকতে পারে?
PCOS-এর সঙ্গে অতিরিক্ত ওজন বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যা থাকলে গর্ভাবস্থায় কিছু জটিলতার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। যেমন—
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
অতিরিক্ত ওজনজনিত সমস্যা
উচ্চ রক্তচাপসহ কিছু গর্ভকালীন জটিলতা
ডিম্বস্ফোটনের অনিয়মের কারণে গর্ভধারণে দেরি
তাই গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উপকারী।
ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞের বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁদের ওজন বেশি এবং PCOD-এর সঙ্গে বিপাকীয় সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর ওজনের দিকে আসা গুরুত্বপূর্ণ। ওজন নিয়ন্ত্রণ করলে অনেকের ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্য এবং ডিম্বস্ফোটনেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।তবে শুধু ওজন কমালেই PCOD পুরোপুরি সেরে যাবে—এমন দাবি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। রোগের কারণ ও উপসর্গ ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।
খাবারের দিকেও নজর দিন
PCOS/PCOD ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মিষ্টি, চিনিযুক্ত পানীয়, অতিরিক্ত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট, ফাস্টফুড ও ভাজাভুজি কমিয়ে শাকসবজি, পর্যাপ্ত প্রোটিন, আঁশযুক্ত খাবার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম ডায়েট বেছে নেওয়া যেতে পারে।নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চাও সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে ব্যক্তিগত শারীরিক পরিস্থিতি অনুযায়ী ডায়েট বা ব্যায়ামের পরিকল্পনা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে আলোচনা করাই ভালো।
কিশোরীদের মধ্যেও কেন বাড়ছে সমস্যা?
বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে PCOS-এর কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, ব্রণ বা অতিরিক্ত লোমের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।তবে কিশোরীদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন এবং PCOS-এর লক্ষণ একে অপরের সঙ্গে মিলে যেতে পারে। তাই শুধুমাত্র একটি উপসর্গ দেখে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়।
PCOD বা PCOS থাকলেই যে সন্তানধারণ অসম্ভব, এমনটা নয়। তবে অনিয়মিত ডিম্বস্ফোটনের কারণে গর্ভধারণে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যা থাকলে গর্ভাবস্থায় কিছু জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।













