কানপুরে ঝড়-বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ওয়ার্ড-২৯ ও গুজৈনি এলাকায় জনজীবন প্রভাবিত

উত্তর প্র শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ওয়ার্ড-২৯ ও গুজৈনিতে বাড়িঘর ও সড়ক পানিতে ডুবে যায়, কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি নিষ্কাশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
কানপুরে ঝড়-বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ওয়ার্ড-২৯ ও গুজৈনি এলাকায় জনজীবন প্রভাবিত
Photo Credit / Attribution: Google

কানপুরে রবিবার দুপুরে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। প্রবল ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই শহরজুড়ে অন্ধকার নেমে আসে। আকাশে ঘন কালো মেঘ ছেয়ে যায় এবং দিনের বেলাতেই সন্ধ্যার মতো পরিস্থিতি দেখা যায়। প্রবল বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন প্রভাবিত হয়।

বৃষ্টির সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যায় ওয়ার্ড-২৯ এবং গুজৈনি এলাকায়। ওয়ার্ড-২৯-এর একাধিক বাড়িতে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে, যার ফলে বাসিন্দারা সমস্যার মুখে পড়েন। ঘরের ভেতর পানি জমে যাওয়ায় মানুষজন গৃহস্থালির সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অন্যদিকে গুজৈনির বহু সড়ক সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে যায় এবং যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। কানপুরে বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার সমস্যা আগেও দেখা গেছে এবং এবারও একাধিক নিম্নাঞ্চলে পানি জমে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বৃষ্টি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নর্দমাগুলো উপচে পড়তে শুরু করে এবং সেই পানি রাস্তা পেরিয়ে বাড়িঘরে পৌঁছে যায়। একাধিক মহল্লায় মানুষকে হাঁটুসমান পানির মধ্যে চলাচল করতে হয়েছে। কিছু স্থানে মোটরসাইকেল ও গাড়িও পানিতে আটকে পড়ে। বাসিন্দারা নগর নিগমের জলনিকাশ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রতি বছর বর্ষার সময় একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রবল ঝড়ো হাওয়ার কারণে শহরের বিভিন্ন অংশে গাছের ডাল ভেঙে সড়কে পড়ে যায়। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়। প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের দল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে মানুষকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝড় ও ভারী বৃষ্টির সময় বিদ্যুতের খুঁটি এবং গাছ থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

তবে এই বৃষ্টিতে তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া থেকে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে শহরের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ছিল এবং মানুষ গরম হাওয়ায় ভোগান্তিতে ছিলেন। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কমে যায় এবং আবহাওয়া মনোরম হয়ে ওঠে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলোতেও আবহাওয়ায় ওঠানামা দেখা যেতে পারে।

বর্তমানে বৃষ্টি থেমে গেলেও কানপুরের বহু এলাকায় জলাবদ্ধতা বজায় রয়েছে। নগর নিগমের দল পানি নিষ্কাশন এবং নর্দমা পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত স্থায়ী সমাধান বের করবে যাতে প্রতি বৃষ্টিতেই সৃষ্ট এই সমস্যার অবসান ঘটে।

Leave a comment