নিশান্ত শর্মার নিরাপত্তায় খরচ হওয়া ৬৮.৬০ লাখ টাকা আদায়ের নোটিশ হিমাচল পুলিশের

পালমপুরের ব্যবসায়ী নিশান্ত শর্মা ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তায় ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ৫০২ টাকা সরকারি খরচ হয়েছে। যৌথ নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিটির সিদ্ধান্তের পর হিমাচল পুলিশ তাঁকে ১৫ দিনের মধ্যে অর্থ সরকারি হিসাবে জমা দেওয়ার নোটিশ দিয়েছে।
নিশান্ত শর্মার নিরাপত্তায় খরচ হওয়া ৬৮.৬০ লাখ টাকা আদায়ের নোটিশ হিমাচল পুলিশের
Photo Credit / Attribution: Google

হিমাচল প্রদেশের পালমপুরের ব্যবসায়ী নিশান্ত কুমার শর্মা ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তায় ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ৫০২ টাকা সরকারি খরচ হয়েছে। যৌথ নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই অর্থ তাঁর কাছ থেকে আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে হিমাচল প্রদেশ পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তর ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নিশান্ত শর্মাকে নোটিশ দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে ৬৮,৬০,৫০২ টাকা সরকারি হিসাবে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। নোটিশের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, রাজ্য সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিচালক, কাংড়ার পুলিশ সুপার এবং সাকোহ-স্থিত রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্টকেও পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে নিশান্ত শর্মা ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিলেন। প্রায় পৌনে তিন বছর ধরে চলা এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মোট ৬৮,৬০,৫০২ টাকা খরচ হয়েছে।

২০২৩ সালে নিশান্ত শর্মা নিজের এবং পরিবারের প্রাণনাশের আশঙ্কা জানিয়ে হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টে ই-মেইল পাঠানোর পর বিষয়টি সামনে আসে। তিনি কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছ থেকে হুমকির অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। হাইকোর্ট বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশের কাছে পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট চেয়েছিল।

অভিযোগের পর ১৬ নভেম্বর ২০২৩ ম্যাক্লোডগঞ্জ থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। এরপর নিশান্ত শর্মা ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে পুলিশ। হুমকির মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাঁদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয় এবং বিভিন্ন সময়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট থেকে সদস্যদের নিরাপত্তায় নিয়োগ করা হয়।

এই ঘটনায় হিমাচল প্রদেশের তৎকালীন পুলিশ মহাপরিচালক সঞ্জয় কুন্ডু এবং কাংড়ার তৎকালীন পুলিশ সুপার শালিনী অগ্নিহোত্রীর নামও সামনে আসে। ডিসেম্বর ২০২৩-এ হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে দুজনকেই অন্য পদে বদলি করার নির্দেশ দেয়। তদন্তে প্রভাব এড়াতে এমন দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যেখানে তাঁরা তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারবেন না।

পরবর্তীতে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে যায়। জানুয়ারি ২০২৪-এ সুপ্রিম কোর্ট পুলিশ মহাপরিচালককে পদ থেকে সরানোর বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ বাতিল করে। শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারকে আইজি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করতে এবং অভিযোগকারী ও তাঁর পরিবারকে হুমকির মূল্যায়নের ভিত্তিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা চালু রাখতে নির্দেশ দেয়।

এই মামলায় নতুন মোড় আসে যৌথ নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিটির সিদ্ধান্তে। ৫ আগস্ট ২০২৬ অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (স্বরাষ্ট্র)-এর সভাপতিত্বে কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে নিশান্ত শর্মা ও তাঁর পরিবারকে দেওয়া নিরাপত্তা এবং তার জন্য হওয়া সরকারি খরচ পর্যালোচনা করা হয়।

কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, রাজ্য সরকার ও পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তায় খরচ করা অর্থ নিশান্ত শর্মার কাছ থেকে আদায় করা হবে। এরপর পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলির কাছ থেকে খরচের সম্পূর্ণ হিসাব সংগ্রহ করে আদায়ের নোটিশ জারি করে।

কাংড়া পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি সময়পর্বে নিরাপত্তায় ৩৭ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৯ টাকা খরচ হয়। অন্য সময়পর্বে সাকোহ রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে খরচ হয় ৩০ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৩ টাকা। দুই অঙ্ক মিলিয়ে মোট খরচ দাঁড়ায় ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ৫০২ টাকা।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপত্তার এই খরচ সরকারি অর্থে বহন করা হয়েছিল। সেই কারণে যৌথ নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থের ক্ষতিপূরণ আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নিশান্ত শর্মা ও তাঁর পরিবারকে ১৬ নভেম্বর ২০২৩ থেকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সময়ে সময়ে পরিবর্তন করা হয় এবং পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তা চালু থাকায় পুলিশ সদস্যদের মোতায়েনের খরচও জমা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর নিরাপত্তায় যুক্ত সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলির কাছ থেকে সরকারি বিবরণ সংগ্রহ করে চূড়ান্ত অর্থ নির্ধারণ করেছে। রাজ্য সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। কাংড়া পুলিশ ও সাকোহ রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ৬৮,৬০,৫০২ টাকার চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়।

নিশান্ত শর্মার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ ভিআইপি নিরাপত্তার মতো কয়েক দিনের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবার হুমকির আশঙ্কা জানানোর পর নিরাপত্তা দেওয়া হয় এবং দীর্ঘ সময় তা চালু থাকে। এই সময় পুলিশ সদস্যদের মোতায়েনে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়।

২০২৩ সালের বিরোধের সময় নিশান্ত শর্মা তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। হাইকোর্টের নথিতে তাঁর পাঠানো ই-মেইলে প্রাণনাশের আশঙ্কার উল্লেখ ছিল। তিনি নিজেকে পালমপুরের একটি হোটেল ব্যবসায় যুক্ত পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাপ ও হুমকির অভিযোগ করেছিলেন। তবে মামলার অভিযোগ ও সিদ্ধান্তগুলি পৃথক আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হয়েছে।

এই ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এবং আইনি পদক্ষেপও হয়েছিল। ডিসেম্বর ২০২৩-এ হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পৃথক নির্দেশনা কার্যকর হয়। জুলাই ২০২৬-এ হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট পুরনো বিরোধের সঙ্গে যুক্ত মামলাতেও রায় দেয়।

আগস্ট ২০২৬-এ ৬৮.৬০ লাখ টাকা আদায়ের নোটিশ জারির পর বিষয়টি ফের সামনে এসেছে। নিরাপত্তা দেওয়ার প্রায় তিন বছর পর পুলিশ এতদিনের খরচের হিসাব তৈরি করে তা আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নোটিশ পাওয়ার পর নিশান্ত শর্মার জন্য নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে অর্থ জমা দেওয়া অথবা এই সিদ্ধান্তকে কোনো আইনি মঞ্চে চ্যালেঞ্জ করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নিশান্ত শর্মার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সাধারণত নিরাপত্তা দেওয়ার আগে হুমকির মূল্যায়ন করা হয়। হুমকি বাস্তব ও গুরুতর হলে পুলিশ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ সময় নিরাপত্তা চালু থাকলে তার সরকারি খরচও পর্যালোচনা করা হয়। এই ক্ষেত্রেও যৌথ নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিটি নিরাপত্তা এবং তার খরচ পর্যালোচনা করেছে।

বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরের নোটিশে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ৬৮,৬০,৫০২ টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। নিশান্ত শর্মা এই অর্থ জমা দেন কি না অথবা সিদ্ধান্তকে আইনি পথে চ্যালেঞ্জ করেন কি না, তা পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়। ২০২৩ সালে নিরাপত্তার অভিযোগ দিয়ে শুরু হওয়া এই বিষয়টি এখন সরকারি নিরাপত্তা ব্যয় আদায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Leave a comment