হিমাচল প্রদেশে বর্ষার সক্রিয়তার মধ্যে পাহাড়ি এলাকায় ফের ভূমিধসের আশঙ্কা বেড়েছে। বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ রাস্তায় ধসে পড়ার ভিডিও সামনে এসেছে। পাহাড় থেকে ভারী ধ্বংসাবশেষ রাস্তায় এসে পড়ায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। রাজ্যের শিমলা, সোলান এবং সিরমৌর জেলায় ভারী বৃষ্টির জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃষ্টির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি উচ্চাঞ্চলে কুয়াশা দেখা দিয়েছে, যার ফলে দৃশ্যমানতা কমে প্রায় ৫০ মিটার হয়েছে।
বর্ষাকালে হিমাচলের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং পাথর পড়ার ঘটনা নিয়মিত সামনে আসে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে বৃষ্টির কারণে একাধিক সড়কপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে ভূমিধসের কারণে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। সোলানেও বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে।
রাস্তায় পাহাড়ের অংশ ধসে পড়ার ঘটনার পর গাড়িচালকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি পথে যাতায়াতকারী মানুষকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হচ্ছে, কারণ বৃষ্টির সময় হঠাৎ পাথর ও ধ্বংসাবশেষ রাস্তায় এসে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে যেসব রাস্তায় আগে থেকেই মাটি ধসে যাওয়া বা পাহাড়ে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানে ঝুঁকি বেশি।
বৃষ্টির সঙ্গে কুয়াশাও পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে। বেশ কয়েকটি পাহাড়ি এলাকায় দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকায় গাড়িচালকদের সামনে রাস্তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। দৃশ্যমানতা ৫০ মিটার পর্যন্ত নেমে এলে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে হেডলাইট ব্যবহার, নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানো এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শিমলা এবং আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে হঠাৎ বৃষ্টি ও কুয়াশার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। হিমাচল প্রদেশের রাজধানী শিমলা পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হওয়ায় ভারী বৃষ্টির সময় সড়ক ও যান চলাচল ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
সোলান ও সিরমৌরেও বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি রাস্তায় ঝুঁকি বেড়েছে। সিরমৌর ভৌগোলিকভাবে বহিঃহিমালয় এবং শিবালিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। বৃষ্টির সময় এই এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ঢাল থেকে ধ্বংসাবশেষ নেমে আসার ঘটনা ঘটতে পারে।
প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর পক্ষ থেকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে এবং ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াত এড়ানো নিরাপদ। কোনো রাস্তায় ভূমিধস হলে সেখান দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে রাস্তা পরিষ্কার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
বর্ষার এই মরশুমে হিমাচল প্রদেশ ইতিমধ্যেই বৃষ্টি, ভূমিধস এবং রাস্তা বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। গত কয়েক দিনে রাজ্যে ভারী বৃষ্টির কারণে একাধিক রাস্তা বন্ধ হয়েছে এবং বিভিন্ন জেলায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
বৃষ্টির সময় পাহাড় থেকে নেমে আসা ধ্বংসাবশেষ শুধু যান চলাচলের জন্যই ঝুঁকি তৈরি করে না, বিদ্যুতের লাইন, পানীয় জলের পাইপলাইন এবং আশপাশের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে প্রভাবিত এলাকায় প্রশাসনকে রাস্তা পরিষ্কারের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার নিরাপত্তাও মূল্যায়ন করতে হয়।
কুয়াশা ও বৃষ্টির এই সংমিশ্রণ পাহাড়ি রাস্তায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ায়। কম দৃশ্যমানতার মধ্যে সামনে থেকে আসা গাড়ি, রাস্তায় পড়ে থাকা পাথর বা ধ্বংসাবশেষ হঠাৎ চোখে পড়তে পারে। তাই গাড়িচালকদের ওভারটেক করা এড়িয়ে চলা এবং সামনের গাড়ির সঙ্গে পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃষ্টির সময় বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল সড়কপথে আগেও ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। এসব স্থানে সংশ্লিষ্ট দফতরের যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হলে রাস্তায় জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ দ্রুত সরাতে সহায়তা হতে পারে। তবে টানা বৃষ্টি হলে একই স্থানে বারবার ভূমিধসের আশঙ্কা থেকে যায়।
আবহাওয়া দফতরের সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে শিমলা, সোলান এবং সিরমৌরের বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নদী-নালা এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকার আশপাশে যাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পর্যটকদেরও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের জারি করা নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে।





