দোকানের দই দেখলেই মনে হয়—এত ঘন আর টাইট দই বাড়িতে কেন জমে না? বাড়িতে দই পাততে গিয়ে কখনও জল কেটে যায়, আবার কখনও দই নরম হয়ে যায়। এর অন্যতম কারণ হতে পারে দুধের ফ্যাট ও সলিডের পরিমাণ, পাশাপাশি দই বসানোর তাপমাত্রা। তবে একটি সহজ কৌশল কাজে লাগাতে পারেন। হালকা গরম দুধে সামান্য দুধের গুঁড়ো মিশিয়ে নিলেই দই আরও ঘন ও ক্রিমি হতে পারে।
দই ঘন করার সিক্রেট কী?
সব দুধে ফ্যাটের পরিমাণ এক নয়। ফুল-ক্রিম বা তুলনামূলক বেশি ফ্যাটযুক্ত দুধ দিয়ে সাধারণত ঘন দই তৈরি করা সহজ। কম ফ্যাটের দুধ ব্যবহার করলে দই তুলনামূলক পাতলা হতে পারে এবং তার থেকে জল আলাদা হওয়ার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়।তবে বাড়িতে যে দুধ রয়েছে, সেটি দিয়েই ঘন দই বানাতে চাইলে কাজে লাগতে পারে দুধের গুঁড়ো। এতে দুধের মোট সলিড বাড়ে এবং দইয়ের গঠন আরও ঘন হতে সাহায্য করতে পারে।
দুধে কতটা দুধের গুঁড়ো দেবেন?
দুধ হালকা গরম থাকা অবস্থায় তাতে ১ থেকে ২ চা-চামচ দুধের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। ভালোভাবে নাড়বেন, যাতে কোথাও কোনও দলা না থাকে।এরপর দুধকে দই বসানোর উপযুক্ত তাপমাত্রায় আনতে হবে। একেবারে ফুটন্ত গরম দুধে দইয়ের স্টার্টার মেশাবেন না। আবার দুধ সম্পূর্ণ ঠান্ডা হয়ে গেলেও ভালোভাবে দই জমতে সমস্যা হতে পারে।
দই বসানোর সময় এই ভুল করবেন না
দুধ যখন হালকা গরম থাকবে, তখন তাতে এক চামচ টাটকা দই দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর পাত্রটি ঢেকে দিন।ঠান্ডা আবহাওয়া হলে পাত্রটি মোটা কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে রাখলে ভিতরের উষ্ণতা কিছুটা বেশি সময় ধরে রাখা যায়। সাধারণত পরিবেশের তাপমাত্রা অনুযায়ী ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা দই না নাড়িয়ে রেখে দিতে পারেন।
মাটির পাত্রে জমালে আরও ঘন হতে পারে
বাড়িতে মাটির পাত্র থাকলে তাতে দই পাততে পারেন। মাটির পাত্র অতিরিক্ত আর্দ্রতার কিছুটা শোষণ করতে পারে, ফলে দইয়ের গঠন আরও ঘন হতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মাটির পাত্রে জমানো দইয়ের আলাদা স্বাদও পাওয়া যায়।
দই জমে গেলেই কি সরাসরি খাবেন?
দই জমে যাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে নাড়াচাড়া না করে ১ থেকে ২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। ঠান্ডা হলে দই আরও ভালোভাবে সেট হতে পারে এবং পরিবেশনের সময় তার গঠনও বেশ টাইট থাকে।
শুধু দুধের গুঁড়োই যথেষ্ট নয়
মনে রাখবেন, দইয়ের ঘনত্ব শুধু একটি উপকরণের উপর নির্ভর করে না। দুধের ধরন, ফ্যাটের পরিমাণ, দুধ কতটা গরম করা হয়েছে, স্টার্টার দইয়ের মান, পরিবেশের তাপমাত্রা এবং দই কতক্ষণ সেট হতে দেওয়া হয়েছে—সবকিছুরই প্রভাব রয়েছে।তাই দুধের গুঁড়ো ব্যবহারের পাশাপাশি সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং দই জমার সময় পাত্র না নাড়ানো equally গুরুত্বপূর্ণ।
বাড়িতে দই পাতার পর অনেক সময় তা শক্তভাবে জমে না, উপর থেকে জল বেরিয়ে যায় কিংবা দই হয়ে যায় নরম ও ট্যালটেলে। তবে দুধের সঙ্গে সামান্য দুধের গুঁড়ো মিশিয়ে এবং কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে দই পাতলে ঘরেই পাওয়া যেতে পারে আরও ঘন, মসৃণ ও ক্রিমি দই।













