পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকট, করাচিতে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার দাবি

পাকিস্তানে জ্বালানি সংকটের মধ্যে করাচি, ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। করাচিতে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার দাবি উঠেছে, যার প্রভাব পানি সরবরাহ, যান চলাচল ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও পড়ছে।

পাকিস্তানে জ্বালানি সংকটের মধ্যে করাচি, ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির মতো বড় শহরে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমও প্রভাবিত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যার কথা করাচির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যেখানে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকার দাবি করা হচ্ছে।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় করাচির বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে একাধিক পাম্পিং স্টেশন কাজ করতে পারে না, ফলে বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে পানি সরবরাহের সমস্যাও যুক্ত হচ্ছে।

করাচির অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার নির্দিষ্ট সময়সূচি সব সময় জানানো হয় না। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বাড়ি, দোকান এবং ছোট ব্যবসার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল পানি পাম্পিং ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় জল সরবরাহও প্রভাবিত হচ্ছে।

করাচিতে বিদ্যুৎ ও পানি সংকট নিয়ে শনিবার বিপুল সংখ্যক মানুষ বিক্ষোভ করেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে একাধিক সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় শহরের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয় এবং বহু মানুষ যানজটে আটকে পড়েন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় এক নারী অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় দুই ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকে।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় করাচির ব্যবসায়ী ও দোকানদাররাও সমস্যায় পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, ধারাবাহিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে উৎপাদন ও বিক্রি উভয়ই প্রভাবিত হচ্ছে। ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার খরচ অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি করছে।

কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও বিদ্যুৎ কোম্পানির কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কথাও সামনে এসেছে।

বিদ্যুৎ কোম্পানির পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ চুরি এবং বকেয়া বিলকেও সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। কোম্পানির দাবি, বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে, যার ফলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।

ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতেও পরিস্থিতি সহজ ছিল না। শনিবার গভীর রাতে ভারী বৃষ্টির পর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এবং সড়ক ও আন্ডারপাস প্রভাবিত হয়।

খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় মানুষের সমস্যা আরও বেড়ে যায়। বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে সরবরাহ বন্ধ রাখার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

পাকিস্তানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা একাধিক সমস্যার মুখোমুখি। দেশের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাকৃতিক গ্যাস এবং রিগ্যাসিফায়েড লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস বা আরএলএনজি-র ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানির প্রাপ্যতা ও সরবরাহে সমস্যা হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে।

এছাড়া বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকট, বিতরণজনিত ক্ষতি, বিদ্যুৎ চুরি এবং বকেয়া পরিশোধের মতো সমস্যাও দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। বিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম হলে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে লোড ম্যানেজমেন্ট বা নির্ধারিত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ব্যবস্থা নিতে হয়।

 

Leave a comment