স্বাধীনতা দিবসের আগে হাওড়ার আকাশে রঙিন ঘুড়ির আনাগোনা শুরু হয়ে গিয়েছে। উৎসবের আবহে ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দ থাকলেও রাস্তার উপর পড়ে থাকা ধারালো মাঞ্জা সুতো হয়ে উঠতে পারে পথচারী ও যানবাহন চালকদের জন্য বড় বিপদের কারণ। চোখ, মুখ, গলা কিংবা শরীরের অন্যান্য অংশে মাঞ্জা লেগে গুরুতর চোট লাগার আশঙ্কা থাকে। তাই উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি এখন থেকেই বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন।
ঘুড়ির সুতোই হয়ে উঠছে বিপদের কারণ
হাওড়া শহরে স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে ঘুড়ি ওড়ানোর দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে। ১৫ অগাস্ট যত এগিয়ে আসছে, ততই বিভিন্ন এলাকায় ঘুড়ি ওড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে। একই ছবি দেখা যাচ্ছে বিশ্বকর্মা পুজোর প্রস্তুতিকালেও।সমস্যা তৈরি হচ্ছে ঘুড়ি কেটে যাওয়ার পর সেই সুতো যখন রাস্তা, গাছপালা বা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আটকে থাকছে। চলন্ত বাইক বা সাইকেলের সামনে আচমকা এমন সুতো চলে এলে চালকের চোখ, নাক, মুখ কিংবা গলায় আঘাত লাগতে পারে।
চিনা মাঞ্জায় কেন ঝুঁকি বেশি?
বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে নাইলনের তৈরি চিনা মাঞ্জা ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ সুতোর তুলনায় এই ধরনের সুতো বেশি শক্ত এবং সহজে ছিঁড়ে বা নষ্ট হয় না। ফলে রাস্তার উপর পড়ে থাকলেও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তা বিপজ্জনক অবস্থায় থাকতে পারে।শুধু মানুষ নয়, গাছপালায় আটকে থাকা মাঞ্জা সুতোর কারণে পাখিদেরও বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ঘুড়ি ওড়ানোর পর অব্যবহৃত বা কেটে যাওয়া সুতো যেখানে-সেখানে ফেলে না রাখার বিষয়েও সচেতন হওয়া জরুরি।
বাইক ও সাইকেল আরোহীদের বাড়তি সতর্কতা
মাঞ্জা সুতোর কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি হতে পারে বাইক ও সাইকেল আরোহীদের ক্ষেত্রে। কারণ তুলনামূলক বেশি গতিতে চলার সময় সামনে থাকা সূক্ষ্ম সুতো অনেক সময় চোখে পড়ে না। আচমকা সেই সুতো শরীরে আটকে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
তাই ঘুড়ি ওড়ানোর মরশুমে রাস্তায় বেরোনোর সময় কয়েকটি বিষয়ে নজর দেওয়া যেতে পারে—
ফুল-ফেস বা সম্পূর্ণ মুখ ঢাকা হেলমেট ব্যবহার করুন।
চোখ সুরক্ষিত রাখতে চশমা ব্যবহার করতে পারেন।
সম্ভব হলে ফুলহাতা পোশাক পরুন।
গলায় স্কার্ফ বা উপযুক্ত কাপড় ব্যবহার করে সুরক্ষা নিন।
ঘুড়ির সুতো রাস্তার উপর পড়ে থাকতে দেখলে সতর্কভাবে গতি কমান।
ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চারপাশে বিশেষ নজর রাখুন।
ঘুড়ি ওড়ানোর সময়ও চাই সচেতনতা
শুধু পথচারী বা বাইক আরোহীদের সতর্ক হলেই হবে না। যাঁরা ঘুড়ি ওড়াচ্ছেন, তাঁদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ব্যস্ত রাস্তার একেবারে পাশে দাঁড়িয়ে ঘুড়ি ওড়ানো এড়ানো উচিত। ঘুড়ি কেটে গেলে সুতো কোথায় গিয়ে পড়ছে, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।বিশেষ করে রাস্তা, রেললাইন, বিদ্যুতের তার কিংবা গাছপালার কাছে ঘুড়ি ওড়ানো থেকে বিরত থাকা নিরাপদ। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন এলাকায় ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।
প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতা
মাঞ্জা সুতোর বিপদ কমাতে প্রশাসনিক নজরদারি যেমন প্রয়োজন, তেমনই সাধারণ মানুষের সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের আনন্দ যেন কারও প্রাণের ঝুঁকির কারণ না হয়ে ওঠে, সেদিকে সকলের নজর রাখা দরকার।
স্বাধীনতা দিবস ও বিশ্বকর্মা পুজোর আগে হাওড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুড়ি ওড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে রাস্তায় পড়ে থাকা মাঞ্জা সুতোর কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। বিশেষ করে বাইক ও সাইকেল আরোহীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফুল-ফেস হেলমেট, চশমা, ফুলহাতা পোশাক ও গলায় স্কার্ফ ব্যবহারের মতো সতর্কতা কিছুটা ঝুঁকি কমাতে পারে।











