আইডিবিআই ব্যাংকের শেয়ার সাম্প্রতিক উচ্চ স্তর থেকে প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পতন হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রাইভেটাইজেশন প্রক্রিয়া ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং দুর্বল নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এই দরপতনের ফলে বাজার মূলধনে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে এবং বিক্রির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের শেয়ার ১১৮.৫ টাকা উচ্চ স্তর থেকে নেমে এসেছে এবং প্রায় ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই পতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং শেয়ারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে সতর্কতা বেড়েছে।
গত এক সপ্তাহে আইডিবিআই ব্যাংকের শেয়ারে ধারাবাহিক পতন লক্ষ্য করা গেছে। শেয়ারের দাম ৫২-সপ্তাহের নিম্ন স্তর ৭২.০৪ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ১৬ মার্চ, সোমবার একক সেশনে শেয়ার প্রায় ১৫–১৬ শতাংশ পতন রেকর্ড করেছে। এই পতনের ফলে ব্যাংকের বাজার মূলধন থেকে ১৮,৫০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।
ব্যাংকের প্রাইভেটাইজেশন প্রক্রিয়া ঘিরে অনিশ্চয়তা শেয়ার পতনের অন্যতম প্রধান কারণ। সরকার এবং লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (LIC) ব্যাংকের অধিকাংশ শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল। এই পরিকল্পনার ঘোষণার পর শেয়ারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছিল। তবে, বর্তমানে জানা গেছে যে ব্যাংকে ৬০.৭২ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে এবং বিক্রির চাপ তীব্র হয়েছে। প্রাইভেটাইজেশন প্রত্যাশায় বহু বিনিয়োগকারী দীর্ঘ সময় ধরে শেয়ারে অবস্থান নিয়েছিলেন। চুক্তি স্থগিত হওয়ার খবর বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে প্রাইভেটাইজেশন সংক্রান্ত সরকারি প্রক্রিয়া বাতিল হওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এই বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। তবে বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
ব্যাংকের নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন (NIM) হ্রাস এবং মুনাফায় স্থিতিশীলতা শেয়ার পতনের আরেকটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মুনাফার মার্জিন বৃদ্ধির প্রত্যাশা করলেও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আয় প্রত্যাশিত স্তরে পৌঁছায়নি।
এই পতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মূলধনে প্রভাব পড়েছে এবং বিনিয়োগ কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যারা শেয়ার ক্রয় করেছেন তারা বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন, আর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ধরে রাখা বা বিক্রির বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করছেন।











