AI-নির্ভর শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে IIT খড়গপুর, ৪ কোটির বেশি পড়ুয়ার উন্নত শিক্ষার রূপরেখা আলোচনায়

দক্ষিণ এশিয়ার ৪ কোটির বেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গঠনে AI-এর গুরুত্ব নিয়ে ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক আলোচনায় অংশ নিল IIT খড়গপুর। শিক্ষক, প্রযুক্তি ও শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বললেন বিশেষজ্ঞরা, জানুন।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে শিক্ষা ব্যবস্থাকেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ৪ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গঠনে কৃত্রিম মেধা কতটা কার্যকর হতে পারে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে একত্রিত হলেন বিশ্বের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ভারতের হয়ে নেতৃত্ব দিল IIT খড়গপুর।

দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষায় নতুন অধ্যায়

দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উচ্চশিক্ষা অঞ্চল। এখানে ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ৪ কোটি ২০ লক্ষ শিক্ষার্থী রয়েছে। এত বিশাল শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্যকর করে ।

ইউনেস্কোর মঞ্চে উজ্জ্বল IIT খড়গপুর

ইউনেস্কোর নেতৃত্বে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের নীতি-সংলাপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে IIT খড়গপুর। আন্তর্জাতিক শিক্ষানীতি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে AI-এর নৈতিক ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক শিক্ষা নীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

‘Meaningful AI’-এর বিশ্বকেন্দ্র হতে পারে দক্ষিণ এশিয়া

সম্মেলনে IIT খড়গপুরের ডিরেক্টর অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সামনে ‘Meaningful AI’-এর বৈশ্বিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার বিরাট সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। শুধুমাত্র প্রযুক্তি নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য AI-কে ব্যবহার করার উপর তিনি জোর দেন।

শিক্ষককে সরিয়ে নয়, আরও শক্তিশালী করুক AI

আলোচনায় উঠে আসে শিক্ষাক্ষেত্রে AI-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অধ্যাপক চক্রবর্তী স্পষ্ট করেন, AI কখনও শিক্ষকের বিকল্প হতে পারে না। বরং এটি শিক্ষকদের কাজকে আরও সহজ ও কার্যকর করে তুলতে পারে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা, দ্রুত মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী শেখার পরিবেশ তৈরিতে AI গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।

‘উত্তর লুকিয়ে আছে দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যেই’

সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বক্তব্যে অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী বলেন, AI যুগে মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের উত্তর শুধু প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির কাছে নেই। বরং সেই উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার, প্রত্যন্ত গ্রাম এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার মধ্যেই। তাঁর এই মন্তব্য উপস্থিত বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলে।

দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় কৃত্রিম মেধা (AI)-এর কার্যকর ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হল। ইউনেস্কোর উদ্যোগে আয়োজিত এই নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে IIT খড়গপুর। শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে ভবিষ্যতের শিক্ষা, বহুভাষিক AI এবং শিক্ষক-সহায়ক প্রযুক্তির গুরুত্ব উঠে আসে আলোচনায়।

Leave a comment