Ind vs Pak: রাষ্ট্রসঙ্ঘে সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, পাকিস্তানের চিঠি ঘিরে দিল্লির কড়া জবাব

সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের চিঠি ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ভারতের। সালিশি আদালতের রায় ও তার এখতিয়ার নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান জেনে নিন।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে ফের সামনে এল সিন্ধু জল চুক্তি। চুক্তি নিয়ে সালিশি আদালতের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের চিঠি প্রচারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে তথ্য বিকৃতির প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—এই সালিশি আদালতের কার্যক্রমকে নয়াদিল্লি বৈধ বলে মনে করে না।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চে পাকিস্তানের চিঠি ঘিরে বিতর্ক

সিন্ধু জল চুক্তি সংক্রান্ত একটি সালিশি আদালতের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে সামনে রেখে পাকিস্তানের তরফে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে চিঠি প্রচার করা হয়েছে বলে ভারতের অভিযোগ। বিষয়টি সামনে আসতেই কূটনৈতিক স্তরে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছে নয়াদিল্লি।ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিষয়টির একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তুলে ধরছে, যা ভারতের দৃষ্টিতে বাস্তব পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ ভারতের

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান নিজের প্রচারের স্বার্থে তথ্যের বিকৃত উপস্থাপনা করছে।বিশেষ করে পাকিস্তানের এক মন্ত্রী যে বিষয়টিকে ‘রায়’ হিসেবে তুলে ধরছেন, সেটিকে ভারতের পক্ষ থেকে Permanent Court of Arbitration-এর বৈধ রায় হিসেবে স্বীকার করা হয়নি। ভারতের বক্তব্য, এই আদালত যে প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে, সেটিই নয়াদিল্লির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

কেন সালিশি আদালতকে মানছে না ভারত?

সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে গঠিত সালিশি আদালতের এখতিয়ার বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে ভারত। নয়াদিল্লির যুক্তি, চুক্তির কাঠামো মেনে আদালতটি গঠিত হয়নি। ফলে ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর ওই ট্রাইব্যুনালের কোনও আইনি এখতিয়ার নেই বলেই ভারতের অবস্থান।এই কারণেই আদালতের কোনও ঘোষণা বা সিদ্ধান্তকে ভারতের পদক্ষেপের ওপর বাধ্যতামূলক বলে মানতে নারাজ নয়াদিল্লি।

১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি কী?

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে জল বণ্টন নিয়ে ১৯৬০ সালে সিন্ধু জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সিন্ধু অববাহিকার ছয়টি নদীর জল ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুই দেশের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ।তবে গত কয়েক বছরে চুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। সেই বিরোধেরই একটি অংশ বর্তমানে সালিশি আদালত এবং তার এখতিয়ার নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের রূপ নিয়েছে।

পহেলগাঁও হামলার পর চুক্তি স্থগিত ভারতের

২০২৫ সালের পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকেই জলবণ্টন চুক্তিকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের বক্তব্য এবং তার পাল্টা ভারতের অবস্থান—দুই দেশই নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরছে।

সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ফের ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক সংঘাত প্রকাশ্যে। চুক্তি সংক্রান্ত সালিশি আদালতের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে সামনে রেখে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পাল্টা দাবি করেছে, পাকিস্তান তথ্য বিকৃত করে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে। দিল্লি আরও জানিয়েছে, যে সালিশি আদালতের কথা বলা হচ্ছে, সেটির বৈধতা ভারত স্বীকার করে না।

Leave a comment