ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর শনিবার দুই দল পরবর্তী ম্যাচ খেলতে ইন্দোরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। খেলোয়াড়দের বিদায়ের সময় বিরসা মুন্ডা বিমানবন্দরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ দেখা যায়। প্রিয় খেলোয়াড়দের এক ঝলক দেখার জন্য ভক্তদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাঁচিতে ম্যাচ চলাকালীন দর্শকদের ক্রিকেটের প্রতি যে উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল, দলগুলির বিদায়ের সময়ও তার প্রতিফলন দেখা যায়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুই দলের যাত্রা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে নিরাপত্তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।
৯ অক্টোবর রাঁচির জেএসসিএ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। দুই দলের ব্যাটাররাই উল্লেখযোগ্য রান করেন এবং শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচের উত্তেজনা বজায় ছিল। প্রথমে ব্যাট করে ভারত পাঁচ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সঞ্জু স্যামসন ৮২ রান করেন। শ্রেয়স আইয়ার ও তিলক বর্মাও দ্রুত রান তুলে ভারতকে বড় স্কোরে পৌঁছতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তবে এত রান করেও জয় পায়নি ভারত।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন। অধিনায়ক শাই হোপ অপরাজিত শতরান করেন। শেরফেন রাদারফোর্ডের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভারতীয় বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯.২ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ২৫২ রান তুলে ছয় উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফেরে।
রাঁচির ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দুই দলের পরবর্তী গন্তব্য মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর, যেখানে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। পরপর ম্যাচের সূচির কারণে খেলোয়াড় ও দল পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের কাছে সময়ের গুরুত্ব রয়েছে। সেই অনুযায়ী ম্যাচের পর দুই দলের যাত্রা এবং পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নির্ধারিত সূচি মেনেই এগিয়ে নেওয়া হয়। রাঁচিতে অবস্থান শেষ করে দুই দল বিরসা মুন্ডা বিমানবন্দরে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে ইন্দোরের উদ্দেশে রওনা হয়।
দুই দলের রওনা হওয়ার সময় বিমানবন্দরে ক্রিকেটপ্রেমীদের উৎসাহ নজর কাড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়ার আশায় ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়। ভারতীয় দলের পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের দেখতেও অনেকে উৎসুক ছিলেন। আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময় খেলোয়াড়দের উপস্থিতি স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। রাঁচিতে ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের কাছে বিমানবন্দরে ক্রিকেটারদের দেখার সুযোগও ক্রিকেট ঘিরে স্মরণীয় অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠে।
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচকে কেন্দ্র করে রাঁচিতে আগে থেকেই আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। টিকিটের চাহিদা, স্টেডিয়ামে দর্শকদের উপস্থিতি এবং খেলোয়াড়দের আগমনের সময় উৎসাহ শহরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে মানুষের আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়। ম্যাচের দিন জেএসসিএ স্টেডিয়ামে দুই দলের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখা যায়। ভারত বড় স্কোর করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ রান তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নেয়। ফল ভারতীয় সমর্থকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত দর্শকদের আকর্ষণ ধরে রাখে।
এখন দুই দলের লক্ষ্য ইন্দোরে অনুষ্ঠিতব্য তৃতীয় ম্যাচ। সিরিজ ১-১ ব্যবধানে সমতায় থাকায় পরবর্তী ম্যাচে জয়ী দল পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। ভারতের সামনে বড় স্কোর রক্ষা করা এবং বোলিংয়ে আরও ভালো পারফরম্যান্স করার চ্যালেঞ্জ থাকবে। অন্যদিকে, রাঁচিতে জয়ের পর সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই পরবর্তী ম্যাচে নামতে চাইবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে পরবর্তী ম্যাচের ফল নির্ভর করবে মাঠে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর।
রাঁচি থেকে দুই দলের বিদায়ের মধ্য দিয়ে শহরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের এই পর্ব শেষ হয়েছে। বিমানবন্দরে ক্রিকেটপ্রেমীদের উৎসাহ দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের দেখার আকর্ষণ শুধু স্টেডিয়ামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখন সমর্থকদের নজর ইন্দোরের পরবর্তী ম্যাচে, যেখানে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবারও মুখোমুখি হবে।











