কেদারনাথ যাত্রাপথে ধস, চীরবাসায় রাস্তা বন্ধ, গৌরীকুণ্ডে আটকে তীর্থযাত্রীরা

উত্তরাখণ্ডের কেদা পাহাড় থেকে মাটি ও পাথর পড়ায় রাস্তা বন্ধ হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে গৌরীকুণ্ডে তীর্থযাত্রীদের আটকে রাখা হয়েছে। ডিডিএমএ-র দল ধসের মাটি সরানোর কাজ করছে। রাস্তা নিরাপদ বলে নিশ্চিত হওয়ার পরেই যাত্রা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেদারনাথ যাত্রাপথে ধস, চীরবাসায় রাস্তা বন্ধ, গৌরীকুণ্ডে আটকে তীর্থযাত্রীরা
Photo Credit / Attribution: Google

উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ ধাম যাত্রাপথে চীরবাসা হেলিপ্যাডের কাছে পাহাড় থেকে পাথর ও ধসের মাটি নেমে আসায় গৌরীকুণ্ড থেকে কেদারনাথ যাওয়ার পদযাত্রার পথ অবরুদ্ধ হয়েছে। এর জেরে তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের গৌরীকুণ্ডে আটকে রাখা হয়েছে, যাতে কেউ ঝুঁকিপূর্ণ অংশের দিকে এগিয়ে না যান। পথের পরিস্থিতি ও পাহাড়ি এলাকার আবহাওয়া বিবেচনা করে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, চীরবাসা হেলিপ্যাডের কাছে পাহাড় থেকে মাটি ও পাথর পড়ায় পদযাত্রার পথ দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই পথ দিয়েই বহু তীর্থযাত্রী কেদারনাথ ধামের উদ্দেশে যাতায়াত করেন। ফলে রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়ার পর যাত্রীদের এগিয়ে যেতে দেওয়া বিপজ্জনক বলে মনে করেছে প্রশাসন। পথ বন্ধের খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলগুলিকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং রাস্তা থেকে ধসের মাটি ও পাথর সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।

জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা আধিকারিক নন্দন সিং রাজওয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, চীরবাসার কাছে ধসের মাটি পড়ার পর জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ)-এর দল রাস্তা থেকে মাটি ও পাথর সরানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলগুলি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ শেষ হওয়া এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পরেই যাত্রী চলাচল পুনরায় চালু করা হবে। কেদারনাথ যাত্রা ফের শুরু করার বিষয়ে আলাদা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলেও প্রশাসন জানিয়েছে। তাই তীর্থযাত্রীদের সরকারি নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ভিড় পৌঁছনো আটকাতেই গৌরীকুণ্ডে যাত্রীদের থামিয়ে রাখা হয়েছে। একসঙ্গে বহু তীর্থযাত্রী বন্ধ রাস্তার দিকে এগিয়ে গেলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে এবং উদ্ধার ও রাস্তা মেরামতের কাজেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সামনে এগোনোর চেষ্টা না করতে যাত্রীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পথে মোতায়েন আধিকারিক ও পুলিশকর্মীদের নির্দেশ মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, কারণ পাহাড়ি পথে পরিস্থিতি অল্প সময়ের মধ্যেই বদলে যেতে পারে।

কেদারনাথ ধামে পৌঁছতে তীর্থযাত্রীদের দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে হয়। এই যাত্রাপথের একাধিক অংশে খারাপ আবহাওয়া কিংবা পাহাড় থেকে মাটি ও পাথর পড়ার কারণে যাতায়াত ব্যাহত হতে পারে। চীরবাসা এলাকাও এই পথের একটি সংবেদনশীল অংশ। সেখানে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে গৌরীকুণ্ডে পৌঁছে কেদারনাথের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া যাত্রীরা প্রভাবিত হয়েছেন।

প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের দলগুলি রাস্তার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। ধসের মাটি সরানোর পাশাপাশি পাহাড়ের উপর থেকে নতুন করে পাথর পড়ার আশঙ্কাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু মাটি ও পাথর সরিয়ে ফেললেই পথকে নিরাপদ বলে ঘোষণা করা সম্ভব নয়। যাত্রী চলাচল পুনরায় চালুর আগে রাস্তার অবস্থা ও নিরাপত্তা যাচাই করা হবে। আবহাওয়া অনুকূল হলে এবং পথ চলাচলের উপযুক্ত বলে বিবেচিত হলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ধরতে এবং তাড়াহুড়ো না করতে বলা হয়েছে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যাত্রার প্রাথমিক পর্যায়ে পৌঁছনো তীর্থযাত্রীরা দর্শনের উদ্দেশে এগিয়ে যেতে চাইলেও রাস্তা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে। বন্ধ রাস্তা দিয়ে নিজে থেকে এগিয়ে যাওয়া, ধসের মাটির উপর দিয়ে চলার চেষ্টা করা কিংবা পাহাড়ের ঢালের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে থাকার এবং পুলিশ ও প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেলা জরুরি পরিচালন কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। রাস্তা চলাচলের উপযুক্ত হলে এবং কেদারনাথ যাত্রা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সরকারি মাধ্যমে তা জানানো হবে। আপাতত গৌরীকুণ্ডে থাকা যাত্রীদের প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে এবং রাস্তা খোলার আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না পাওয়া পর্যন্ত সামনে এগোনোর চেষ্টা না করতে বলা হয়েছে। চীরবাসার কাছে ধসের মাটি ও পাথর সরানোর কাজ এবং রাস্তা নিরাপদ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই পদযাত্রা পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Leave a comment