ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৪ রানে হারিয়ে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে ২২৩ রানে অলআউট হয়। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান তোলে। ভারতের হয়ে অভিষেক শর্মা ৩০ বলে ৬৯ রান করেন এবং ঈশান কিষাণ ১৮ বলে ৩৭ রান করে দলকে বড় স্কোরে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শাই হোপ। ভারতের শুরু অবশ্য প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। দ্রুত আউট হয়ে যান সঞ্জু স্যামসন। এরপর অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষাণ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ভারতীয় ইনিংসের গতি বাড়ান।
অভিষেক ৩০ বলে ৬৯ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। অন্যদিকে, ঈশান ১৮ বলে ৩৭ রান করেন, যার মধ্যে ছয়টি চার ও একটি ছক্কা ছিল। দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৪০ বলে ১০৮ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটার। তাঁদের জুটি ভারতকে বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে দেয়।

অভিষেক ও ঈশান আউট হওয়ার পরও রানের গতি ধরে রাখার চেষ্টা করে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ। তিলক বর্মা ১৬ বলে ২৮ রান করেন। নীতীশ কুমার রেড্ডি ১৪ বলে ২১ রান এবং অক্ষর প্যাটেল ১৪ বলে ২০ রান যোগ করেন। নমন ধীর পাঁচ বলে ১০ রান করেন। প্রিন্স যাদব ছয় বলে অপরাজিত ১৩ রান করেন।
এরপর ভারত ২০ ওভারে ২২৩ রানে অলআউট হয়। জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২২৪ রান।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক শাই হোপ মাত্র পাঁচ রান করে অর্শদীপ সিংয়ের বলে বোল্ড হন। তাঁর দ্রুত আউট হওয়ায় চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এরপর কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ইনিংস সামলান। পুরান ২৭ বলে ৪২ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও তিনটি ছক্কা। হেটমায়ার ২৬ বলে ৪৩ রান করেন, যার মধ্যে ছয়টি চার ও দুটি ছক্কা ছিল।

এই জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি করে দেয়। তবে নমন ধীর দুই সেট ব্যাটারকেই আউট করে ভারতের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন। এর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তোলার গতি কমে যায়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের নীচের সারির ব্যাটাররা লড়াই চালিয়ে যান। শেরফেন রাদারফোর্ড ২০ বলে ৩২ রান করেন এবং কোয়েন্টিন স্যাম্পসন ১৫ বলে ২১ রান যোগ করেন। কিমো পল ছয় বলে ১০ রান করেন। রভম্যান পাওয়েল পাঁচ রান করে আউট হন।
ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট নেন। তিনি শাই হোপ, শেরফেন রাদারফোর্ড ও কিমো পলকে আউট করেন। নমন ধীর কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ারের উইকেট তুলে নেন। নীতীশ কুমার রেড্ডি ও অক্ষর প্যাটেলও একটি করে উইকেট পান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ২০৯ রানেই থেমে যায়। ফলে ভারত ১৪ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।








