নয়াদিল্লিতে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত INDIA জোটের বৈঠকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকা এবং EVM-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যৌথ আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করেছে বিরোধী দলগুলি। বৈঠকের পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে আন্দোলনের একাধিক পর্যায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলা স্তরে ‘সেভ ডেমোক্রেসি মার্চ’ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে। ৬ অক্টোবর বিরোধী সাংসদরা নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত মিছিল করবেন।
এছাড়া অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোট। পাঁচটি বড় সমাবেশ আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ নভেম্বর দিল্লিতে একটি বড় সমাবেশ প্রস্তাবিত রয়েছে। বাকি সমাবেশগুলির স্থান পরে নির্ধারণ করা হবে।
বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং ভোটার তালিকায় পরিবর্তন নিয়ে বিরোধী দলগুলি যখন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তখন INDIA জোটের এই বৈঠক হয়। বৈঠকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং EVM ব্যবহারের মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে উত্থাপন করেন বিরোধী নেতারা।
বৈঠকের পর খাড়গে বলেন, বিরোধী দলগুলি এই বিষয়গুলিতে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে। তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং ‘ভোট চুরি’র দাবিকে আন্দোলনের প্রধান বিষয়গুলির মধ্যে রাখেন। তিনি আরও বলেন, EVM-এর পরিবর্তে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচন করার দাবিতেও বিরোধী দলগুলি একমত।
তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম এবং ‘ভোট চুরি’ নিয়ে অভিযোগগুলি বিরোধী দলগুলির দাবি। নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন সময়ে এই অভিযোগ এবং তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। ফলে এই দাবিগুলিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্যের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলির অভিযোগ ও দাবি হিসেবে দেখা উচিত।
INDIA জোটের ঘোষিত কর্মসূচিতে ৬ অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওই দিন বিরোধী সাংসদরা নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত মিছিল করবেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকা এবং কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি সামনে রাখাই এর উদ্দেশ্য।
এর পাশাপাশি ২ থেকে ৮ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘সেভ ডেমোক্রেসি মার্চ’ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে। জেলা স্তরে জেলাশাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ করারও পরিকল্পনা রয়েছে জোটের। এর মাধ্যমে আন্দোলনকে বিভিন্ন রাজ্য ও জেলার স্তরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে।
বিরোধী জোট অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। INDIA জোটের নেতারা রাষ্ট্রপতির সামনে নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত নিজেদের প্রশ্ন তুলে ধরবেন।
বিরোধীদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থার সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। অন্যদিকে, শাসকপক্ষ এই অভিযোগগুলি খারিজ করে আসছে এবং নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
INDIA জোট পাঁচটি বড় সমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ১ নভেম্বর দিল্লিতে প্রস্তাবিত সমাবেশটি অন্যতম প্রধান কর্মসূচি। অন্য চারটি সমাবেশ কোথায় হবে, তা পরে নির্ধারণ করা হবে।
জোটের এই কৌশল শুধু সংসদ বা দিল্লিতে সীমাবদ্ধ নয়। জেলা স্তরের বিক্ষোভ এবং দেশজুড়ে মিছিলের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের বিষয়গুলি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা এবং লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বৈঠকে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বিরোধী নেতারা সম্মিলিতভাবে সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। রাহুল গান্ধী আরও বলেন, গণতন্ত্র কোনও এক ব্যক্তির চেয়ে বড়।
রাহুল গান্ধী নির্বাচনে কথিত ‘ভোট চুরি’র বিষয়টিও পুনরায় তুলে ধরেন এবং বলেন, বিরোধীরা এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের সামনে রাখছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে যুবসমাজের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর এই দাবিগুলিকেও রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে দেখা উচিত। নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে জবাব দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবি করেন। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার অধিকার নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার এবং তা রক্ষা করা বিরোধীদের দায়িত্ব।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে ৯২ লাখ ভোটে কথিত কারচুপি এবং গোটা দেশে ১৩ কোটিরও বেশি ভোটের কথিত পরিসংখ্যানের দাবি করেন। তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কথিত সফটওয়্যার ব্যবহারের পাশাপাশি EVM নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এই পরিসংখ্যান ও অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ হয়নি এবং এগুলিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধীদের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা উচিত। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নিজেদের পদক্ষেপকে আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বলে আসছে।
INDIA জোটের কৌশলে জেলা স্তরের বিক্ষোভ থেকে দিল্লির বড় সমাবেশ পর্যন্ত একাধিক পর্যায় রয়েছে। ২ থেকে ৮ অক্টোবর স্থানীয় স্তরে কর্মসূচি, ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত মিছিল এবং অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করার পর ১ নভেম্বর দিল্লিতে বড় সমাবেশের প্রস্তাব রয়েছে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিরোধী দলগুলি নির্বাচনী প্রক্রিয়া, SIR, ভোটার তালিকায় পরিবর্তন এবং EVM-সংক্রান্ত নিজেদের প্রশ্ন একটি অভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বৈঠকে বিরোধী দলগুলির ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সব INDIA শরিক দলের অংশগ্রহণ একই রকম ছিল না। উপলব্ধ রিপোর্ট অনুযায়ী, আম আদমি পার্টি বৈঠকে অংশ নেয়নি। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও বৈঠক থেকে দূরে ছিলেন। অন্যদিকে, অন্যান্য বিরোধী নেতারা যৌথ পদক্ষেপের পক্ষে নিজেদের মতামত জানান।
শাসকপক্ষ INDIA জোটের আন্দোলন এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সমালোচনা করেছে। বিজেপি নেতারা বিরোধীদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ তুলেছেন এবং নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
INDIA জোটের ঘোষিত কৌশলের প্রথম পর্যায় ২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। এরপর ৬ অক্টোবর বিরোধী সাংসদদের নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত মিছিল করার কর্মসূচি রয়েছে। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা এবং ১ নভেম্বর দিল্লির বড় সমাবেশ এই অভিযানের পরবর্তী পর্যায়।
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচনী প্রক্রিয়া, SIR, ভোটার তালিকা, EVM এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন।











