ভোট চুরির অভিযোগে ১২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত INDIA ব্লকের পদযাত্রা, বন্ধ ছয় মেট্রো স্টেশন

নির্বাব্যালট পেপারে ভোটের দাবিতে ১২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পদযাত্রার ঘোষণা করেছে INDIA ব্লক। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত রাহুল গান্ধীর সাক্ষাতের অনুরোধ গ্রহণ করেননি। কর্মসূচির জেরে দিল্লির ছয়টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানপথ বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে।

কংগ্রেস-সহ বিরোধী জোট INDIA ব্লক ভোট চুরি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পদযাত্রার ঘোষণা করেছে। কংগ্রেস এই কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘চলো দিল্লি-মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’। বিরোধীদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) স্থগিত করা এবং ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। এদিকে, ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্যকান্ত লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেছেন। প্রস্তাবিত পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, ছয়টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানপথ বন্ধ রাখা হয়েছে।

কংগ্রেস এবং INDIA ব্লকের অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা সোমবার দিল্লিতে পদযাত্রা করবেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিরোধী নেতারা দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কনট প্লেস ও বারাখাম্বা রোডের সংযোগস্থলে জমায়েত হবেন। সেখান থেকে প্রস্তাবিত পদযাত্রার মাধ্যমে তাঁরা নির্বাচনী প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন।

বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা উচিত। জোটের নেতারা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR স্থগিত করা এবং ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার দাবিও এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বিষয়।

তবে ভোট চুরির অভিযোগগুলি বিরোধী দলগুলির দাবি। এই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী তথ্য, নথি এবং সরকারি প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী রবিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে তাঁকে একটি স্মারকলিপি দেওয়াই এই সাক্ষাতের উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছিল। তবে সূত্রের খবর, প্রধান বিচারপতি সেই অনুরোধ গ্রহণ করেননি।

জানা গিয়েছে, প্রধান বিচারপতি বলেছেন, এই ধরনের বিষয় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। সেই কারণে তিনি সাক্ষাতে সম্মতি দেননি।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ গৃহীত না হওয়ার পর কংগ্রেস জানায়, তারা তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করে। তবে গণতন্ত্র এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত প্রশ্নগুলি তুলে ধরতে পদযাত্রা অব্যাহত থাকবে।

এই ঘটনার পর বিরোধীদের প্রস্তাবিত কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। তবে সাক্ষাতে অস্বীকৃতিকে কোনও পক্ষের অভিযোগের বিচারিক স্বীকৃতি বা খারিজ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

বিরোধীদের পদযাত্রার পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি মেট্রোর ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রী চলাচল ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। স্টেশনগুলি হল জনপথ, মাণ্ডি হাউস, বারাখাম্বা রোড, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, রাজীব চক এবং প্যাটেল চক।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই স্টেশনগুলির প্রবেশ ও প্রস্থানপথ বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছিল। যাত্রীদের যাত্রা শুরুর আগে মেট্রো পরিষেবার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প স্টেশন বা পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় অফিসযাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং অন্যান্য যাত্রীদের যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। স্টেশন বন্ধ থাকার সময়সীমা এবং পরিষেবা পরিচালনায় পরিবর্তন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে দিল্লি মেট্রোর সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রস্তাবিত পদযাত্রার কথা মাথায় রেখে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশও যান চলাচল-সংক্রান্ত পরামর্শ জারি করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৬টা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচলের পথ পরিবর্তনের পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে শঙ্কর রোড-বন্ধে মাতরম টি-পয়েন্ট, ধৌলা কুয়াঁ ফ্লাইওভার, ঝান্ডেওয়ালান গোলচত্বর, মাণ্ডি হাউস, কনট প্লেস, সংসদ মার্গ, প্যাটেল চক এবং অশোক রোড সংলগ্ন এলাকা রয়েছে।

পুলিশ নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লি থেকে রেলস্টেশন, আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল (ISBT) অথবা বিমানবন্দরের দিকে যাতায়াতকারী যাত্রীদের হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে। অপ্রয়োজনীয় যাত্রা এড়িয়ে চলার কথাও বলা হয়েছে।

পদযাত্রার সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী যান চলাচলের ব্যবস্থায় পরিবর্তন করা হতে পারে। তাই যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই বাড়ি থেকে বেরোনো, বিকল্প পথ ব্যবহার করা এবং পুলিশের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে বিরোধীরা এর আগেও প্রতিবাদ জানিয়েছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর INDIA ব্লকের নেতারা সংসদ থেকে বিজয় চক পর্যন্ত পদযাত্রা করেছিলেন। এর পরে বিরোধী নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে স্মারকলিপি দেয়।

ওই প্রতিনিধি দলে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিরোধী নেতা ছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। অন্যদিকে, কয়েকজন সাংসদ বিজয় চকে ধরনায় বসেন।

রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে বিরোধীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত বিষয়গুলি তুলে ধরেছিল। বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির এই বিষয়গুলিতে নজর দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা উচিত।

বিরোধী সাংসদরা ৬, ৭, ৮ এবং ৯ অক্টোবর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও SIR-এর প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করেছিলেন। প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, এই প্রতিবাদগুলির সময় রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাকে পুলিশ তিনবার আটক করেছিল।

১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের আটক করা এবং তাঁদের সঙ্গে কথিত মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও বিরোধীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিরোধী নেতারা পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আচরণের তদন্ত দাবি করেছেন।

তবে কতজনকে আটক করা হয়েছিল, কী পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল এবং কথিত মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিস্তারিত বক্তব্য সামনে আসা প্রয়োজন। স্বাধীন তদন্ত এবং সরকারি তথ্যের ভিত্তিতেই পুরো ঘটনার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া সম্ভব।

INDIA ব্লকের প্রস্তাবিত পদযাত্রা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন নির্বাচনী স্বচ্ছতা, ভোটার তালিকার সংশোধন এবং নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বিরোধীরা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং SIR স্থগিত করার দাবি জানাচ্ছে।

এই দাবিগুলি এবং অভিযোগগুলি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধান, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এবং বিচারিক প্রক্রিয়া বিবেচনা করা প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে জনপরিসরে বিতর্কের পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিও গুরুত্বপূর্ণ।

দিল্লিতে বিরোধীদের পদযাত্রার কারণে নিরাপত্তা ও যান চলাচলের ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কর্মসূচি চলাকালীন রাজনৈতিক নেতাদের পরবর্তী পদক্ষেপ, পুলিশের ভূমিকা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

 

Leave a comment