ভারত–ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়ে ভারতীয় টেক্সটাইল খাত লাভবান

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট কার্যকর হওয়ায় ইউরোপীয় বাজারে ভারতীয় টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশের ও তুরস্কের বাজার অংশীদারির ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পাদিত ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভারসাম্যে পরিবর্তন এনেছে। এই চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ায় ভারতীয় টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস পণ্যের রপ্তানিতে সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে উপস্থিত থাকা বাংলাদেশ ও তুরস্কের বাজার অংশীদারির ওপর চাপ বাড়তে পারে।

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পাদিত ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের লক্ষ্য দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা হ্রাস, শুল্ক অপসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি। চুক্তির ফলে ইউরোপীয় বাজারে একাধিক ভারতীয় পণ্যের জন্য জিরো ডিউটি অ্যাক্সেস নিশ্চিত হয়েছে। এর আগে ইউরোপে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন শুল্ক ও নিয়ন্ত্রক বাধার সম্মুখীন হতে হতো, যার কারণে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা সীমিত ছিল।

চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় টেক্সটাইল ও রেডিমেড গার্মেন্টস পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোনো আমদানি শুল্ক ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবে। এর ফলে ভারতীয় পোশাক, গার্মেন্টস ও ফ্যাব্রিকস তুলনামূলকভাবে কম দামে বাজারজাত করা সম্ভব হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের বাজার অংশীদারি এখনো সীমিত থাকলেও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ার পর তা বৃদ্ধি পেতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেডিমেড গার্মেন্টস খাত প্রধান ভূমিকা পালন করে এবং দেশটির মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি এই খাত থেকে আসে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। ভারতীয় পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার কার্যকর হলে ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

তুরস্ক ইউরোপীয় বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত এবং ভৌগোলিক নিকটতা ও দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। তবে ভারতের বৃহৎ উৎপাদন সক্ষমতা, শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল এবং শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার তুরস্কের এই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

এই ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের ফলে ভারতীয় টেক্সটাইল শিল্পে রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় বাজারে পরিবেশগত মান, শ্রম আইন ও ট্রেসেবিলিটি সংক্রান্ত নিয়ম মানার ক্ষেত্রে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর ওপর আরও গুরুত্ব আরোপ হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।

 

Leave a comment