ভারতে ২৬ জানুয়ারি ও ১৫ আগস্ট জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সাংবিধানিকভাবে ভিন্ন। এই দুই দিনে পতাকা উত্তোলনের পদ্ধতি, নেতৃত্ব এবং স্থান আলাদা হলেও উভয় ক্ষেত্রেই জাতীয় পতাকা রাষ্ট্রের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
গণতন্ত্র দিবসে ২৬ জানুয়ারি কर्तব্য পথ-এ রাষ্ট্রপতি জাতীয় পতাকা উন্মোচন করেন। এই দিনে পতাকা আগে থেকেই দণ্ডের শীর্ষে বাঁধা থাকে এবং রাষ্ট্রপতি দড়ি টেনে পতাকাটি খুলে দেন। এই প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে Flag Unfurling বলা হয়। এটি ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর দেশটি একটি প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রতীক।
সংবিধান অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি জাতীয় পতাকা উন্মোচন করেন, কারণ রাষ্ট্রপতি ভারতের সাংবিধানিক প্রধান ও প্রথম নাগরিক। এই কারণে গণতন্ত্র দিবসের প্রধান অনুষ্ঠান কर्तব্য পথ-এ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের সামরিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রদর্শিত হয়।
স্বাধীনতা দিবসে ১৫ আগস্ট জাতীয় পতাকা দণ্ডের নিচে বাঁধা থাকে এবং প্রধানমন্ত্রী সেটিকে নিচ থেকে উপরে তুলে উত্তোলন করেন। এই প্রক্রিয়াকে Flag Hoisting বা ধ্বজারোহণ বলা হয়। এটি দীর্ঘ সময়ের পরাধীনতার পর ভারতের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রতীক।

১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী দেন, কারণ সেই সময়ে ভারতের সংবিধান কার্যকর হয়নি এবং রাজনৈতিকভাবে দেশের প্রধান ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই কারণেই স্বাধীনতা দিবসের প্রধান অনুষ্ঠান ঐতিহাসিক লাল কেল্লা থেকে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।
১৫ আগস্টের অনুষ্ঠান লাল কেল্লায় অনুষ্ঠিত হয়, যা ভারতের স্বাধীনতার প্রতীক। অন্যদিকে, ২৬ জানুয়ারির অনুষ্ঠান কर्तব্য পথ-এ অনুষ্ঠিত হয়, যা সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর ভারতের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে তুলে ধরে।
উভয় দিনেই জাতীয় পতাকা জাতীয় গৌরবের প্রতীক হলেও, প্রক্রিয়া, নেতৃত্ব ও স্থানের দিক থেকে এই দুই দিনের সাংবিধানিক গুরুত্ব ভিন্ন।






