রাঁচিতে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ম্যাচটি ৯ অক্টোবর রাঁচির জেএসসিএ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে বুধবার দুপুর প্রায় ৩টা ৪০ মিনিটে দুই দলের খেলোয়াড় রাঁচিতে পৌঁছাবেন। লখনউয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচের পর দুই দলের পরবর্তী গন্তব্য রাঁচি।
রাঁচিতে পৌঁছানোর পর দুই দলকে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। ম্যাচের এক দিন আগে, ৮ অক্টোবর, দুই দল জেএসসিএ স্টেডিয়ামে অনুশীলন করবে। ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ মুখোমুখি হবে। বিসিসিআইয়ের অফিসিয়াল ম্যাচ সেন্টার অনুযায়ী, ম্যাচটি জেএসসিএ ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হবে।
ম্যাচটির সম্প্রচারের কমেন্ট্রি বক্সেও একাধিক পরিচিত নাম থাকছেন। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় লেগস্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল। প্রথমবারের মতো তিনি কমেন্ট্রি বক্সে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দর্শকদের সঙ্গে ম্যাচের অভিজ্ঞতা ভাগ করবেন। হিন্দি সম্প্রচারে জতিন সাপ্রু অ্যাঙ্করের দায়িত্বে থাকবেন। আকাশ চোপড়া ও যুজবেন্দ্র চাহাল কমেন্ট্রি করবেন।
দীর্ঘ সময় ভারতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে বোলিং করার পর চাহালের এই ভূমিকা পরিবর্তন হয়েছে। এবার তিনি খেলোয়াড় হিসেবে নয়, কমেন্টেটর হিসেবে ম্যাচ বিশ্লেষণ করবেন। লেগস্পিন, ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা এবং টি-২০ ক্রিকেটের কৌশল নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ধারাভাষ্যে উঠে আসবে।
রাঁচির ম্যাচের জন্য হিন্দি কমেন্ট্রি দলের পাশাপাশি বিসিসিআই ওয়ার্ল্ড ফিডেও একাধিক প্রাক্তন ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার থাকছেন। এই কমেন্ট্রি দলে রয়েছেন সুনীল গাভাসকর, হর্ষা ভোগলে, মুরলী কার্তিক, ইয়ান বিশপ, ড্যারেন গঙ্গা এবং অভিনব মুকুন্দ।
জেএসসিএ স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ ঘিরে স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও আগ্রহ রয়েছে। টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পর অনলাইন টিকিট অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। কাউন্টারগুলিতেও দর্শকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বৃষ্টির মধ্যেও দর্শকদের উপস্থিতি ছিল।
ম্যাচকে কেন্দ্র করে রাঁচি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ নিরাপত্তা এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি জোরদার করেছে। স্টেডিয়ামে দর্শকদের ভিড় বিবেচনায় নিরাপত্তা, ট্রাফিক ও পার্কিং ব্যবস্থা সংগঠিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিনা টিকিটের দর্শকদের স্টেডিয়ামের আশপাশে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জড়ো হতে না দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামে প্রবেশ দুপুর ৩টে থেকে শুরু হবে বলে আগে জানানো হয়েছে।
জেএসসিএ স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালীন ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে নিরাপত্তা, প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পার্কিং এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন। আন্তর্জাতিক ম্যাচ হওয়ায় খেলোয়াড় ও দলগুলির নিরাপত্তাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বর্তমান টি-২০ সিরিজটি পাঁচ ম্যাচের। প্রথম ম্যাচ ৬ অক্টোবর লখনউয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচ ৯ অক্টোবর রাঁচিতে, তৃতীয় ম্যাচ ১১ অক্টোবর ইন্দোরে, চতুর্থ ম্যাচ ১৪ অক্টোবর হায়দরাবাদে এবং পঞ্চম ম্যাচ ১৭ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে নির্ধারিত রয়েছে।
লখনউয়ে প্রথম টি-২০ ম্যাচে ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আট উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ভারতের হয়ে অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ৪৩ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৭১ রানের লক্ষ্য ভারত দুই উইকেট হারিয়ে ৩২ বল বাকি থাকতেই অর্জন করে।
প্রথম ম্যাচে ভারতীয় বোলাররা পাওয়ারপ্লেতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাওয়ারপ্লের মধ্যে তিনটি উইকেট হারায়। এরপর শাই হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ড ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। ভারতীয় বোলাররা পরপর উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭১ রানে আটকে রাখেন। পরে ভারতীয় ব্যাটাররা লক্ষ্য তাড়া করে।
রাঁচির দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এখনও আরও ম্যাচ বাকি থাকায় দলটির কৌশল পরিবর্তন করে ভারতের বিরুদ্ধে চাপ তৈরির সুযোগ রয়েছে। ভারত লখনউয়ের পর রাঁচিতেও জয় ধরে রেখে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নামবে।
এই ম্যাচে ভারতের তরুণ খেলোয়াড়দের দিকেও নজর থাকবে। বর্তমান টি-২০ সিরিজকে ভারতীয় দল ভবিষ্যতের জন্য খেলোয়াড়দের পরীক্ষা এবং দলীয় কম্বিনেশন আরও শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবেও ব্যবহার করছে। এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার পর ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস উঁচু রয়েছে। রাঁচির ম্যাচেও টিম ম্যানেজমেন্ট বিভিন্ন খেলোয়াড়কে দায়িত্ব দিয়ে তাঁদের সক্ষমতা যাচাই করতে পারে।
দুই দলের রাঁচিতে পৌঁছানোর সঙ্গে শহরে ম্যাচ ঘিরে ক্রিকেটের আবহ আরও বাড়বে। বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যাওয়ার সময় খেলোয়াড়দের এক ঝলক দেখতে সমর্থকদের নজর থাকবে দলের বাসের দিকে। ৮ অক্টোবরের অনুশীলন এবং ৯ অক্টোবরের ম্যাচ ঘিরেও শহরে প্রস্তুতি চলছে।
সুনীল গাভাসকর ও হর্ষা ভোগলের মতো অভিজ্ঞ নামের পাশাপাশি চাহালের নতুন কমেন্ট্রি ভূমিকা ম্যাচের সম্প্রচারে একটি নতুন সংযোজন হবে। গাভাসকরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, হর্ষা ভোগলের বিশ্লেষণাত্মক ধারাভাষ্য এবং চাহালের বোলিং অভিজ্ঞতা ম্যাচের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনায় উঠে আসবে।
রাঁচির ম্যাচ ঘিরে স্টেডিয়ামের বাইরেও নিরাপত্তা, ট্রাফিক, পার্কিং, টিকিট যাচাই এবং দর্শকদের যাতায়াত ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দর্শকদের ম্যাচের দিন সময়ের আগে স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার এবং প্রশাসন ও স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিনা টিকিটে স্টেডিয়ামের আশপাশে ভিড় না করার কথাও জানানো হয়েছে।
৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেএসসিএ স্টেডিয়ামে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচ শুরু হবে। ভারত সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি কমেন্ট্রি বক্সে অভিজ্ঞ ধারাভাষ্যকারদের সঙ্গে চাহালের নতুন ভূমিকাও ম্যাচের সম্প্রচারের অন্যতম দিক হয়ে থাকবে।











