ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলার ঘাঘরা প্রखंडের চপকায় শহিদ সন্তোষ উরাঁওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তি প্রায় এক মাস ধরে পুনঃস্থাপনের অপেক্ষায় পড়ে ছিল। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সময়মতো মূর্তি পুনঃস্থাপনের কোনও দৃঢ় উদ্যোগ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত শহিদের মা গীতা দেবী নিজেই উদ্যোগ নেন। তিনি নিজের খরচে তাঁর ছেলে সন্তোষ উরাঁওয়ের মূর্তি পুনরায় স্থাপন করান।
সন্তোষ উরাঁও দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর স্মৃতিতে চপকায় মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। মূর্তিটি তাঁর আত্মত্যাগের স্মৃতি এবং স্থানীয় মানুষের কাছে সম্মানের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু মূর্তিটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রায় এক মাস সেটি মাটিতে পড়ে ছিল। এই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং শহিদের মূর্তি দ্রুত সম্মানের সঙ্গে পুনঃস্থাপনের দাবি জানান।
স্থানীয় পর্যায়ে মূর্তি ভেঙে পড়ে থাকার ঘটনায় ক্ষোভও ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, শহিদের মূর্তি কোনও সাধারণ মূর্তির মতো নয়। এটি সেই ব্যক্তির আত্মত্যাগের স্মৃতি বহন করে, যিনি দেশ ও সমাজের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এমন স্মারক দীর্ঘ সময় ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকা শুধু রক্ষণাবেক্ষণের বিষয় নয়, শহিদের সম্মানের সঙ্গেও যুক্ত।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তোলেন, শহিদের মূর্তির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার। মূর্তি ভেঙে যাওয়ার পর সেটি মেরামত বা পুনরায় স্থাপনের জন্য প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সময়মতো দৃঢ় পদক্ষেপ কেন নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নও ওঠে।
স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের অন্যতম কারণ, প্রতি বছর শহিদের মৃত্যুবার্ষিকীতে কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সেখানে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান। সেই পরিস্থিতিতে শ্রদ্ধা জানানোর আগে মূর্তিটির অবস্থা ঠিক রাখাও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।













