ভারতীয় শেয়ারবাজার টানা চতুর্থ সেশনে পতন সেনসেক্স 363.66 পয়েন্ট ও নিফটি 126.65 পয়েন্ট কমে বন্ধ

অপরির প্রভাবে ভারতীয় শেয়ারবাজার টানা চতুর্থ লেনদেন সেশনে নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে। সেনসেক্স 363.66 পয়েন্ট এবং নিফটি 126.65 পয়েন্ট কমেছে, পাশাপাশি বিভিন্ন খাত ও নির্বাচিত শেয়ারে বিস্তৃত বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

ভারতীয় শেয়ারবাজারে টানা চতুর্থ লেনদেন সেশনেও পতন অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবারও বাজার নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক বিক্রি এবং বৈশ্বিক বাজারের দুর্বল সংকেত বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবারের লেনদেনে বিএসই সেনসেক্স 363.66 পয়েন্ট বা প্রায় 0.47 শতাংশ কমে 76,391.39 পয়েন্টে বন্ধ হয়। একই সময়ে এনএসই নিফটি 126.65 পয়েন্ট বা প্রায় 0.53 শতাংশ পতনের মাধ্যমে 23,869.60 পয়েন্টে লেনদেন শেষ করে।

বাজারজুড়ে বিক্রির চাপ বিস্তৃত ছিল। একাধিক শীর্ষ কোম্পানির শেয়ারে পতন দেখা যায়, যেখানে সীমিত সংখ্যক শেয়ারই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করতে সক্ষম হয়।

নিফটি 50 সূচকে Adani Enterprises, Shriram Finance, Nestle India, Adani Ports এবং Bajaj Finance ছিল দুর্বল পারফরম্যান্সকারী প্রধান শেয়ারের মধ্যে। এসব শেয়ারে বিক্রির চাপ বাজারের সামগ্রিক দুর্বলতাকে প্রতিফলিত করেছে। অন্যদিকে Bajaj Auto, SBI Life Insurance, Mahindra & Mahindra, TCS এবং Eicher Motors ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়। অটো খাতে কেনাকাটার প্রবণতা বাজারের পতনকে কিছুটা সীমিত রাখতে সহায়তা করেছে।

খাতভিত্তিক সূচকের মধ্যে Realty Index সবচেয়ে বেশি চাপে ছিল এবং এতে প্রায় 1.8 শতাংশ পতন রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া Oil & Gas, Infrastructure, PSU Bank এবং Energy খাতের সূচকও প্রায় 1 শতাংশ পর্যন্ত দুর্বল হয়েছে। Metal, Pharma, FMCG এবং Consumer Durables শেয়ারেও বিক্রির চাপ দেখা গেছে। তবে Auto খাত বাজারের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে ইতিবাচক পারফরম্যান্স করেছে। Nifty Auto Index প্রায় 0.7 শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে লেনদেন শেষ করে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি বাজারের পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। Brent Crude-এর দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় 97 ডলারে পৌঁছানোয় ভারতের মতো বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশের জন্য উদ্বেগ বেড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অপরিশোধিত তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে ভারতের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এর ফলে কোম্পানিগুলোর ব্যয় এবং দেশের চলতি হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে অপরিশোধিত তেলের দামের তীব্র ঊর্ধ্বগতি শেয়ারবাজারের জন্য নেতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সৌদি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার খবরও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধির ফলে অপরিশোধিত তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

দেশীয় বাজারে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) কার্যকলাপেরও প্রভাব দেখা গেছে। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় 819 কোটি টাকার ভারতীয় শেয়ারের নিট বিক্রি করেছেন। বিদেশি মূলধনের ধারাবাহিক বহির্গমনের ফলে বাজারের ওপর চাপ বাড়তে পারে, বিশেষত যখন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন এবং উদীয়মান বাজারে ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

Leave a comment