পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যে মিশ্র সূচকে শুরু ভারতীয় শেয়ারবাজারের লেনদেন

ভারতীয় শেয়ারবাজার বুধবার মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন শুরু করে। পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও দুর্বল বৈশ্বিক সংকেতের মধ্যে সেনসেক্স 69 পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে 73,988.27 স্তরে এবং নিফটি 50 8 পয়েন্ট পতনের সঙ্গে 23,233 স্তরে লেনদেন শুরু করে।

বুধবার পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দুর্বল বৈশ্বিক সংকেতের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় শেয়ারবাজার মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃদ্ধি পাওয়া সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যার প্রভাব এশীয় ও ভারতীয় আর্থিক বাজারেও প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রাথমিক লেনদেনে বিএসই সেনসেক্স প্রায় 69 পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে 73,988.27 স্তরে লেনদেন করতে দেখা যায়। অন্যদিকে, এনএসই নিফটি 50 8 পয়েন্ট পতনের সঙ্গে 23,233 স্তরে খোলে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহের ওপর নিবিড় নজর রাখছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে জ্বালানি সরবরাহ, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগমুখী হন, যার ফলে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশীয় অর্থনৈতিক উপাদান ভারতীয় বাজারকে সমর্থন দিলেও নিকটবর্তী সময়ে বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

প্রাথমিক লেনদেনে ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাতের কিছু শেয়ারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে ক্রয় প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, আর অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে তেল ও গ্যাস খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার সমর্থন পেয়েছে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি শেয়ারের দুর্বলতার প্রভাব ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও দেখা গেছে।

বিনিয়োগকারীরা প্রযুক্তি এবং কিছু ভোক্তাভিত্তিক খাতের শেয়ারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। কাঁচামালের ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় রং ও রাসায়নিক খাতের কোম্পানিগুলোর ওপরও চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

ভারতীয় বাজারের পাশাপাশি এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলিতেও দুর্বলতা দেখা যায়। পশ্চিম এশিয়ার বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং এর সম্ভাব্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে প্রভাব ফেলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক চাপের মধ্যে ছিল, জাপানের নিক্কেই ও টপিক্স সূচকও নিম্নমুখী লেনদেন করেছে। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচকও নেতিবাচক অঞ্চলে অবস্থান করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক ঝুঁকি বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান বাজার থেকে মূলধন সরিয়ে নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন, যা এশীয় বাজারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সাম্প্রতিক লেনদেন পর্বে মার্কিন শেয়ারবাজারেও ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান মার্কিন সূচকগুলোর পারফরম্যান্স মিশ্র ছিল, আর ফিউচার্স বাজার দুর্বলতার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি মূল্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি নিয়ে নজর রাখছেন। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগকারীরা স্বল্পমেয়াদি ঝুঁকি গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।

 

Leave a comment