ঝাড়খণ্ডে আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। মৌসুমি বায়ুর অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক জেলায় বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
রাঁচি আবহাওয়া বিজ্ঞান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং ঝাড়খণ্ডে পৌঁছানোর জন্য অনুকূল পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের মতে, মৌসুমি বায়ু আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন অংশ অতিক্রম করে বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং ওডিশার দিকে এগোচ্ছে।
বর্তমান আবহাওয়াগত পরিস্থিতি একই রকম থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ঝাড়খণ্ডের অধিকাংশ এলাকায় মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকা মানুষ ও কৃষকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন।
আবহাওয়াবিদ অভিষেক আনন্দের মতে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিও রেকর্ড হতে পারে।
বৃষ্টি শুরু হলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে আর্দ্রতা ও তীব্র গরম থেকে স্বস্তি মিলতে পারে। গত কয়েক দিনে রাজ্যের বহু এলাকায় গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করছিল।
মৌসুমি বায়ুর আগমনে জলস्रोत ও ভূগর্ভস্থ জলের স্তরও উপকৃত হতে পারে।
মৌসুমি বায়ুর আগমন কৃষিক্ষেত্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে খরিফ ফসলের বপনের উপযুক্ত সময় শুরু হবে। রাজ্যের কৃষকরা ধানসহ অন্যান্য খরিফ ফসলের চাষের জন্য মৌসুমি বায়ুর অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো মৌসুমি বায়ু এলে কৃষি কার্যক্রমে গতি আসতে পারে এবং ফসলের ভালো উৎপাদনের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।
আবহাওয়া বিভাগ ১০ জুনের জন্য রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করেছে। পালামু, গড়ওয়া, চাত্রা, লাতেহার, রাঁচি, রামগড়, গুমলা, বোকারো, খুঁটি, লোহরদাগা এবং ধানবাদ জেলায় কোথাও কোথাও বজ্রগর্জন, বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া ১১ ও ১২ জুনের জন্য কয়েকটি জেলায় অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। রাঁচি, রামগড়, হাজারিবাগ, ধানবাদ, বোকারো, কোডারমা, দেওঘর, দুমকা, গোড্ডা, পাকুড়, জামতাড়া, গিরিডিহ এবং সাহিবগঞ্জ জেলায় বজ্রগর্জন, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
খারাপ আবহাওয়ার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, বজ্রগর্জন ও বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে যাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত সরকারি সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখতে হবে।
প্রশাসন ও আবহাওয়া বিভাগ পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। মৌসুমি বায়ুর আগমনের সঙ্গে রাজ্যে বৃষ্টিপাতের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।












