বৃহস্পতিবারও ভারতীয় শেয়ারবাজারে পতনের ধারা অব্যাহত ছিল। সকাল প্রায় ৯টা ৩০ মিনিটে সেনসেক্স 97.96 পয়েন্ট কমে 72,382.33 স্তরে লেনদেন করছিল। অন্যদিকে, নিফটি 53.71 পয়েন্ট কমে 22,566.75 স্তরে নেমে আসে।
প্রারম্ভিক লেনদেনে সেনসেক্স ও নিফটি উভয়ই লাল নিশানে ছিল। বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা, অপরিশোধিত তেলের দামে বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রভাব ঘরোয়া বাজারে দেখা যায়।
লেনদেনের শুরুতে বিক্রির চাপ আরও বেশি ছিল। এক সময় সেনসেক্স 215 পয়েন্ট পর্যন্ত কমে 72,257.30 স্তরে পৌঁছায়। একই সময়ে নিফটি 107.25 পয়েন্ট ভেঙে 22,518.90 স্তরে নেমে যায়। বৈশ্বিক সূচক এবং কমোডিটি বাজারের পরিবর্তনের দিকে নজর রেখে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেন।
শেয়ারবাজারে চলতি পতনের মধ্যে নিফটির 22,600 স্তরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই স্তরের আশপাশের গতিবিধি বাজারের পরবর্তী দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নিফটি যদি ধারাবাহিকভাবে 22,600-এর নিচে থাকে এবং দুর্বলতা বাড়ে, তাহলে বাজারে অতিরিক্ত বিক্রির চাপ দেখা দিতে পারে।

তবে বাজারের দিক কেবল প্রযুক্তিগত স্তরের ওপর নির্ভর করবে না। বৈশ্বিক বাজারের গতিবিধি, অপরিশোধিত তেলের দাম, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কার্যকলাপ এবং আসন্ন অর্থনৈতিক সূচকগুলিও ভারতীয় শেয়ারবাজারকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে লেনদেনের সময় অস্থিরতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবারের লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের দামে বৃদ্ধিও বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার একটি কারণ ছিল। ভারতের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি বিল, মূল্যস্ফীতি এবং সংস্থাগুলির খরচের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। অপরিশোধিত তেলের দামে বৃদ্ধির মধ্যে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকির ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নেন।
এর পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে চলমান অনিশ্চয়তাও বাজারের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে শেয়ারে সীমিত কেনাকাটা এবং নির্বাচিত খাতে বিক্রির চাপ দেখা গেছে।
প্রারম্ভিক লেনদেনে কয়েকটি প্রধান শেয়ারের ওপরও চাপ দেখা যায়। বাজাজ অটো এবং ম্যাক্স হেলথের শেয়ারে প্রায় 3 শতাংশ পর্যন্ত পতন নথিভুক্ত হয়। এই শেয়ারগুলির দুর্বলতাও বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে। তবে একটি মাত্র লেনদেন পর্বের গতিবিধি দিয়ে পুরো বাজারের প্রবণতা নির্ধারণ করা কঠিন। বিভিন্ন খাত ও সংস্থার ওপর তাদের আর্থিক ফলাফল, মূল্যায়ন এবং ব্যবসায়িক পরিস্থিতির ভিত্তিতে ভিন্ন প্রভাব পড়তে পারে।
দেশীয় ইকুইটি বাজারে দুর্বলতার পাশাপাশি প্রারম্ভিক লেনদেনে ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দরও কিছুটা কমে যায়। টাকা 3 পয়সা কমে প্রতি ডলারে 95.97 স্তরে পৌঁছায়। অপরিশোধিত তেলের দাম এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে ঝুঁকির পরিস্থিতি টাকার দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে রয়েছে।










