ভারতীয় শেয়ারবাজার টানা পঞ্চম সপ্তাহ পতনে বন্ধ, নিফটি ২২,৮১৯ এবং সেনসেক্স ৭৩,৫৮৩-এ

ইরান সংকট, উচ্চ তেলের দাম এবং রুপির দুর্বলতার প্রভাবে ভারতীয় শেয়ারবাজার টানা পঞ্চম সপ্তাহ নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে। নিফটি ৫০ এবং সেনসেক্সে পতনের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের বহির্মুখী প্রবাহ এবং অস্থিরতা সূচকের বৃদ্ধি বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে।

ভারতীয় শেয়ারবাজার চলতি সপ্তাহে টানা পঞ্চম সপ্তাহের মতো নিম্নমুখী অবস্থায় বন্ধ হয়েছে, যা গত আট মাসের দীর্ঘতম পতনের ধারাকে নির্দেশ করে। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ৫০ সূচক ২২,৮১৯.৬০-এ এবং বিএসই সেনসেক্স ৭৩,৫৮৩.২২-এ বন্ধ হয়েছে। ইরান সংকট, উচ্চ তেলের দাম এবং রুপির দুর্বলতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি করে বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কাঁচা তেলের উচ্চ মূল্য বিদেশি বিনিয়োগের বহির্মুখী প্রবাহ বাড়িয়েছে এবং রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়তে থাকা অনিরাপত্তার কারণে বাজারে ধারাবাহিক বিক্রির প্রবণতা দেখা গেছে।

গত সপ্তাহে নিফটি ৫০ সূচক শুক্রবার ২.০৯ শতাংশ পতন হয়ে ২২,৮১৯.৬০-এ বন্ধ হয়েছে, আর বিএসই সেনসেক্স ২.২৫ শতাংশ কমে ৭৩,৫৮৩.২২-এ নেমে এসেছে। পুরো সপ্তাহে উভয় সূচক প্রায় ১.৩ শতাংশ দুর্বল ছিল। মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচক যথাক্রমে ১.৪ শতাংশ এবং ০.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এই পতনের প্রধান কারণ ছিল বিদেশি বিনিয়োগের বহির্মুখী প্রবাহ এবং ডলারের বিপরীতে রুপির দুর্বলতা। রুপি ৯৪.৮১২৫-এর রেকর্ড নিম্নস্তরে বন্ধ হয়েছে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে অবস্থান করায় ভারতের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে চাপ তৈরি হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস পেয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলার পর থেকে নিফটি ও সেনসেক্স প্রায় ৯.৫ শতাংশ কমেছে। বাজারের অস্থিরতা সূচক ২৭.০৯-এ পৌঁছেছে, যা জুন ২০২৪-এর পর সর্বোচ্চ স্তর। এটি বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

গোল্ডম্যান স্যাক্স এই সময়ে ভারতের ২০২৬ সালের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৫.৯ শতাংশে নামিয়েছে এবং ভারতীয় শেয়ারবাজারের রেটিং ‘ওভারওয়েট’ থেকে ‘মার্কেটওয়েট’-এ নামিয়েছে, যা বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য ১০ দিনের অতিরিক্ত সময় দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন যে ইরান তা না মানলে বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবকে ‘অন্যায্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

উচ্চ তেলের দামের প্রভাব কোম্পানিগুলোর মার্জিনেও পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্জিন প্রায় ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা আয়ের পূর্বাভাসকে প্রভাবিত করতে পারে।

সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এনার্জি ও মেটাল খাতে যথাক্রমে ১.৯ শতাংশ এবং ২.২ শতাংশ পতন হয়েছে। এইচডিএফসি ব্যাংকের শেয়ার ৩.১ শতাংশ কমেছে, যা টানা পঞ্চম সাপ্তাহিক পতন এবং ছয় বছরের মধ্যে দীর্ঘতম নিম্নমুখী ধারা; এর পেছনে আকস্মিক পদত্যাগ এবং নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনা উল্লেখযোগ্য কারণ। বিপরীতে, ওএনজিসির শেয়ার উচ্চ তেলের দামের কারণে ৬.২ শতাংশ বেড়েছে, যা গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোত্তম পারফরম্যান্স। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে বাজারে লাভ ও ক্ষতির মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।

Leave a comment