যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ও তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে পতনের মধ্যে খুলল ভারতীয় শেয়ারবাজার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ভূ শুরুতে ভারতীয় শেয়ারবাজার নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু করে। নিফটি ৫০ এবং সেনসেক্স উভয়ই পতনের সঙ্গে খোলে, যেখানে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে।

ভারতীয় শেয়ারবাজারে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার প্রভাব দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে সপ্তাহের শুরুতে প্রধান সূচকগুলো নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু করে।

নিফটি ৫০ প্রায় ১১০ পয়েন্ট পতনের সঙ্গে ২৩,১০৪ স্তরে বাজার খোলে, অন্যদিকে সেনসেক্স ৩৬৭ পয়েন্ট কমে ৭৩,৬১৫ স্তরের কাছাকাছি লেনদেন শুরু করে।

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে। ব্যয়বহুল অপরিশোধিত তেল ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য মূল্যস্ফীতি এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ, অপরিশোধিত তেলের মূল্যগত প্রবণতা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কার্যকলাপ দেশীয় শেয়ারবাজারের দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

লেনদেনের শুরুতে নিফটি ৫০ প্রায় ১১০ পয়েন্ট কমে ২৩,১০০ স্তরের আশেপাশে অবস্থান করছিল। একই সময়ে সেনসেক্স প্রায় ৩৬৭ পয়েন্ট দুর্বল হয়ে ৭৩,৬০০ স্তরের কাছাকাছি লেনদেন করছিল। প্রাথমিক লেনদেনে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দূরে থেকে তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্পের দিকে ঝুঁকেছেন, যার প্রভাব ইক্যুইটি বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারের দুর্বলতাও ভারতীয় বাজারকে প্রভাবিত করেছে। আগের সেশনে মার্কিন বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির তথ্য বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব পরিস্থিতি বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতাকে প্রভাবিত করেছে।

জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধিকে ভারতীয় অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ঘটনাপ্রবাহ জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এই সামুদ্রিক পথ বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এখানে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক দামে প্রভাব ফেলতে পারে।

অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু জ্বালানি ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি পরিবহন, উৎপাদন এবং মূল্যস্ফীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ভারত, যা তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে, এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে পারে।

জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। তেল ও গ্যাস খাতের কিছু কোম্পানি বাড়তি জ্বালানি মূল্যের সম্ভাব্য সুবিধাভোগী হতে পারে—এই প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া আর্থিক পরিষেবা এবং টেলিযোগাযোগ খাতের কিছু বড় শেয়ার বাজারকে সীমিত সমর্থন দিয়েছে।

অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি এবং অটোমোবাইল খাতের বেশ কয়েকটি প্রধান শেয়ার চাপের মধ্যে ছিল। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিদেশি বাজারের দুর্বলতার প্রভাব এই খাতগুলোর ওপর বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাজারের গতিপ্রকৃতি মূলত বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহের ওপর নির্ভর করবে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। তবে শক্তিশালী দেশীয় অর্থনৈতিক ভিত্তি, কর্পোরেট আয় এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ভারতীয় বাজারের জন্য ইতিবাচক উপাদান হিসেবে রয়ে গেছে।

 

Leave a comment