ইরান দাবি করেছে যে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মার্কিন MQ-9 রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে যে গত দুই দিনে তারা ইরানের ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। উভয় পক্ষের দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি। তবে এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা IRNA-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট একটি মার্কিন MQ-9 ড্রোন শনাক্ত করে সেটিকে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। ইরানের দাবি, দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ দাবি সমর্থন বা খণ্ডন করে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এ দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ সম্ভব হয়নি।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে, সামরিক চাপ ও হামলা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ব্যাহত হতে পারে। ইরানের মতে, এমন পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এ এলাকায় সামরিক উত্তেজনা তেল সরবরাহ ও জ্বালানির দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
![]()
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে, মঙ্গলবার ও বুধবার ইরানের ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মার্কিন বিমান হামলা বুশেহর পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশেও হয়েছে। তবে তাদের দাবি, পারমাণবিক স্থাপনাটির কোনো ক্ষতি হয়নি।
অন্যদিকে, পরে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, দক্ষিণ ইরানে সাম্প্রতিক কয়েকটি বিস্ফোরণের সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং ওয়াশিংটন এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই রয়েছে।
ইরান আরও দাবি করেছে যে তারা বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মাঝপথেই প্রতিহত করেছে। এসব দাবিরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাপ্রবাহ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও দেখা গেছে। প্রাথমিক লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের দামে সামান্য পতন রেকর্ড করা হলেও সপ্তাহজুড়ে উভয় প্রধান বেঞ্চমার্ক উচ্চ পর্যায়ে ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও দামের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
টানা দুই দিনের বড় আকারের সামরিক অভিযানের পর বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো বিমান হামলা চালায়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখার চেষ্টা করছে। সূত্রগুলোর মতে, কাতার, পাকিস্তান এবং আরও কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি না ঘটে।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এমন গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নিয়েছিল, যাতে ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির উল্লেখ ছিল। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
ইরানে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেয়ির জনসমক্ষে উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোমে আয়োজিত একটি শোকসভায় তাঁর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাঁর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জল্পনাও সামনে এসেছে।









