রাজস্থানের ডুংগারপুর জেলায় শুক্রবার সকালে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। শহরের শাস্ত্রী কলোনি রোডে একটি দ্রুতগতির বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর দুই আরোহী সড়কে পড়ে গেলে বাসটির একটি চাকা তাদের মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসচালক বাস নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ মামলা দায়ের করে তার সন্ধান শুরু করেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই যুবক এক পরিচিত ব্যক্তির শেষকৃত্যে যোগ দিতে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। বাসস্ট্যান্ড থেকে তহসিল চৌরাস্তার পথে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃতদের পরিচয় নরেশ, খেরওয়াড়া নিবাসী, এবং গোপাল, সালুম্বর নিবাসী, হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
কোতওয়ালি থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি মেওয়ার ফার্নিচারের সামনে ঘটে। প্রত্যক্ষ তথ্য অনুযায়ী, বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়। দুই আরোহী সড়কে পড়ে গেলে বাসের পিছনের চাকা তাদের মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়, ফলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও অ্যাম্বুল্যান্সকে খবর দেন। পুলিশ ও চিকিৎসক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ডুংগারপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই বাসচালক বাস নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা শুরু করেছে এবং বাসটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চালকের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার কারণে বাসস্ট্যান্ড থেকে তহসিল চৌরাস্তার পথে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ যানবাহন অন্য লেন দিয়ে ঘুরিয়ে দেয়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
কোতওয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। কর্মকর্তাদের মতে, দুর্ঘটনার কারণ বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় বাসটির গতি কত ছিল এবং চালক ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ দুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এই সড়কে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
পুলিশ নাগরিকদের কাছে আবেদন জানিয়েছে, দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত কোনো ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্য তথ্য থাকলে তা তদন্তকারী সংস্থাকে সরবরাহ করতে। এতে অভিযুক্ত চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়তা মিলবে।
প্রশাসন সব চালককে নিরাপদ গতিতে যান চালানো এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।










