জয়পুরে ১.৬১ কোটি টাকার রত্ন প্রতারণার অভিযোগে ২৪ বছরের আলজেব খান গ্রেফতার

জয়পুরের আদর্শ নগর থানার পুলিশ ১.৬১ কোটি টাকার মূল্যবান রত্ন প্রতারণার অভিযোগে ২৪ বছর বয়সি আলজেব খানকে গ্রেফতার করেছে। বিদেশে ব্যবসার আশ্বাস, রত্ন কেনাবেচা এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে ১.৬১ কোটি টাকার মূল্যবান রত্ন প্রতারণার অভিযোগে ২৪ বছর বয়সি আলজেব খানকে গ্রেফতার করেছে আদর্শ নগর থানার পুলিশ। পুলিশের দাবি, বিদেশে ব্যবসা এবং ভালো মুনাফার আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করতেন। এরপর তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান রত্ন সংগ্রহ করে অর্থ পরিশোধে প্রতারণা করতেন বলে অভিযোগ।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা রত্নের সন্ধান, সেগুলি বিক্রি করে পাওয়া অর্থের হিসাব এবং এই ঘটনায় অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।

রত্ন ব্যবসায়ী শুজাত আনসারির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ব্যবসায়িক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে আলজেব খান তাঁর কাছ থেকে মূল্যবান রত্ন কিনেছিলেন এবং প্রায় ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকার রত্ন নিয়ে পালিয়ে যান। তবে অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন। অভিযুক্তের বক্তব্য এবং আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।

পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, শুজাত আনসারি জয়পুরে রত্নের ব্যবসা করেন। অভিযুক্ত আলজেব খান তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান রত্ন কিনতেন। এর মধ্যে টুরমালিন, পান্না (Emerald), ট্যানজানাইট (Tanzanite) এবং সিট্রিন (Citrine) ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যবসায় ভালো মুনাফার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি অন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও রত্ন কিনে অভিযুক্তকে সরবরাহ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ধীরে ধীরে লেনদেনের পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকার রত্ন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

কোন তারিখে রত্ন কেনা হয়েছিল, প্রতিটি লেনদেনের শর্ত কী ছিল এবং কীভাবে অর্থ পরিশোধের কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এর মাধ্যমে ঘটনাটি ব্যবসায়িক লেনদেনে অর্থ পরিশোধের বিরোধ, নাকি শুরু থেকেই প্রতারণার পরিকল্পনা ছিল, তা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

আদর্শ নগর থানার পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত প্রথম দিকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ছোট অঙ্কের লেনদেন করতেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সময়মতো অর্থ পরিশোধ করে তিনি তাঁদের আস্থা অর্জন করতেন বলে অভিযোগ।

এরপর তিনি বিদেশে ব্যবসা এবং সেখানে বাণিজ্যিক যোগাযোগ থাকার কথা জানাতেন বলে পুলিশের দাবি। এর ফলে ব্যবসায়ীরা তাঁর সঙ্গে বড় অঙ্কের লেনদেনে আগ্রহী হতেন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, একই পদ্ধতিতে অভিযুক্ত অভিযোগকারী শুজাত আনসারির সঙ্গেও ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, অভিযুক্ত একইভাবে কতজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে লেনদেন করেছিলেন এবং অন্য কোনও ব্যবসায়ী তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন কি না। তবে সম্ভাব্য অন্য ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা বা তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কিত মামলার বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

পুলিশের দাবি, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মূল্যবান রত্ন সংগ্রহের পর অভিযুক্ত সেগুলি কম দামে অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিতেন বলে অভিযোগ। বিক্রির অর্থের একটি অংশ পুরনো ব্যবসায়িক বকেয়া মেটাতে ব্যবহার করা হতো কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কিছু ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হতো বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের অভিযোগ, বাকি অর্থ অভিযুক্ত ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার করতেন। এর মধ্যে দামি পার্টি, বিনোদন এবং বিদেশ ভ্রমণের খরচ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এই অভিযোগগুলি যাচাই করতে ব্যাঙ্কের লেনদেন, অর্থ পরিশোধের রসিদ, কেনাবেচার নথি এবং অন্যান্য আর্থিক রেকর্ড পরীক্ষা করা প্রয়োজন। শুধু বাজারদরের চেয়ে কম দামে রত্ন বিক্রি করাই অপরাধের প্রমাণ নয়। সংশ্লিষ্ট লেনদেনে প্রতারণা হয়েছিল কি না, তা তদন্তে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অভিযোগ পাওয়ার পর আদর্শ নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর অভিযুক্তের সন্ধান এবং অভিযোগ অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা রত্নের হদিস পেতে একটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ছগন ডাঙ্গির নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আলজেব খানকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ এখন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে লেনদেনের সম্পূর্ণ বিবরণ জানার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, রত্নগুলি উদ্ধার করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত কথিতভাবে সংগ্রহ করা রত্ন কাদের কাছে বিক্রি করেছিলেন এবং সেগুলি বিক্রি করে কত টাকা পেয়েছিলেন, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। বাজারদরের তুলনায় কম দামে রত্ন কিনেছেন, এমন সম্ভাব্য ক্রেতাদের দিকেও নজর রয়েছে তদন্তকারীদের।

তবে কম দামে রত্ন কেনার ঘটনা একাই কোনও ব্যক্তির অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়। ক্রেতারা রত্নগুলির উৎস সম্পর্কে জানতেন কি না এবং কথিত প্রতারণায় তাঁদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখতে হবে।

লেনদেনের নথি, অর্থ পরিশোধের রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ পাওয়া গেলে রত্নগুলির গতিপথ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে।

বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। অভিযোগ অনুযায়ী বিক্রি করা রত্ন, সেগুলি থেকে পাওয়া অর্থ, সংশ্লিষ্ট ক্রেতা এবং সম্ভাব্য অন্য ক্ষতিগ্রস্তদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

রত্ন উদ্ধারের পরিমাণ, অন্য কোনও অভিযুক্তের গ্রেফতার বা আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী, আর্থিক নথি এবং জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরের রত্ন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১.৬১ কোটি টাকার কথিত প্রতারণার অভিযোগে এই মামলা দায়ের হয়েছে। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি। তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়া এবং বিচারিক প্রক্রিয়া এগোনোর পরই ঘটনার পূর্ণ বিবরণ স্পষ্ট হবে।

Leave a comment