বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রতিষ্ঠাতা কাঁশিরামের মহাপরিনির্বাণ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের প্রধান মায়াবতী। এই উপলক্ষে তিনি কাঁশিরামের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবদানের কথা স্মরণ করেন। মায়াবতীর বক্তব্য অনুযায়ী, দলিত, আদিবাসী, অনগ্রসর শ্রেণি এবং সমাজের অন্যান্য বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন কাঁশিরাম।
মায়াবতী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে কাঁশিরামকে শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, সামাজিক বৈষম্য ও জাতপাতভিত্তিক বিভেদের মুখোমুখি হওয়া মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করতে কাঁশিরাম নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টার লক্ষ্য ছিল বঞ্চিত সম্প্রদায়গুলিকে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ, আত্মসম্মান এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা।
নিজের বার্তায় কাঁশিরামকে বহুজন সমাজের ত্রাতা হিসেবে উল্লেখ করেন মায়াবতী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণিগুলিকে ক্ষমতার গুরুত্ব বুঝতে এবং সেই ক্ষমতা কাজে লাগানোর পথ দেখিয়েছিলেন কাঁশিরাম। তাঁর আন্দোলন ড. ভীমরাও আম্বেদকরের সামাজিক ন্যায়বিচার, সমতা ও আত্মমর্যাদার ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিএসপি প্রধান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের মুখোমুখি হওয়া মানুষদের রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করেছিলেন কাঁশিরাম। ভোটাধিকারকে পরিবর্তনের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরে তিনি বঞ্চিত সম্প্রদায়গুলিকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিজেদের অংশগ্রহণ আরও সুদৃঢ় করতে অনুপ্রাণিত করেন।
মায়াবতী তাঁর বার্তায় সামাজিক পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতায় অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, কাঁশিরামের প্রচেষ্টা বহুজন সমাজের মানুষকে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি চিনতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সুযোগ করে দিয়েছিল।
কাঁশিরামের রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে উত্তরপ্রদেশে নিজের সরকারের কথাও উল্লেখ করেন মায়াবতী। তিনি বলেন, কাঁশিরামের লক্ষ্য ও আদর্শ বহুজন সমাজ পার্টিকে রাজ্যের রাজনীতিতে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। এই রাজনৈতিক যাত্রার মধ্যেই চারবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন মায়াবতী।
ভারতীয় রাজনীতিতে উত্তরপ্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের প্রেক্ষাপটে রাজ্যে বিএসপির ক্ষমতায় পৌঁছনো দলিত রাজনীতি ও সামাজিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বহুজন সমাজকে সংগঠিত করে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন কাজ করেছিলেন কাঁশিরাম।

মায়াবতী বলেন, তাঁর সরকারগুলির সময় সামাজিক পরিবর্তন, জনকল্যাণ এবং উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি কাঁশিরামের ভাবনাকে মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলে, নারায়ণ গুরু, রাজর্ষি ছত্রপতি শাহুজি মহারাজ এবং ড. ভীমরাও আম্বেদকরের মতো সমাজসংস্কারকদের উত্তরাধিকারের সঙ্গেও যুক্ত করেন।
মায়াবতী তাঁর বার্তায় সামাজিক সমতা, আত্মমর্যাদা এবং অর্থনৈতিক মুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমাজসংস্কারকদের সংগ্রামের লক্ষ্য ছিল এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি সমান সুযোগ ও অধিকার পাবেন।
ড. আম্বেদকর ভারতের সংবিধান প্রণয়ন এবং সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। অন্যদিকে, জ্যোতিবা ফুলে জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য ও সামাজিক অসাম্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।
এই ভাবনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কাঁশিরাম রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে বঞ্চিত সম্প্রদায়গুলির অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করেন। বিএসপির রাজনীতিতে এই সমাজসংস্কারকদের আদর্শের উল্লেখ এখনও গুরুত্বপূর্ণ। দলটি তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে সমতা, প্রতিনিধিত্ব এবং বঞ্চিত শ্রেণির অধিকারকে প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরে আসছে।
কাঁশিরামের মহাপরিনির্বাণ দিবস উপলক্ষে বহুজন সমাজ পার্টির উদ্যোগে বিভিন্ন জেলায় শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে দলের কর্মী ও সমর্থকেরা তাঁর অবদান স্মরণ করেন।
কাঁশিরামের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচিতেও মায়াবতীর অংশ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এ ধরনের অনুষ্ঠানে বিএসপির নেতা ও কর্মীরা কাঁশিরামের আদর্শ, সামাজিক আন্দোলন এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকার স্মরণ করেন।












