জয়পুরে মোবাইল চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, দুই গ্রেপ্তার ও আট স্মার্টফোন উদ্ধার

জয়পুরে এসএমএস হাসপাতাল থানা পুলিশ একটি সংগঠিত মোবাইল চুরি চক্রের পর্দাফাঁস করে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে আটটি চুরি হওয়া স্মার্টফোন উদ্ধার হয়েছে এবং চুরি হওয়া মোবাইল সরবরাহের নেটওয়ার্কের তদন্ত চলছে।

জয়পুরে এসএমএস হাসপাতাল থানা পুলিশ একটি সংগঠিত মোবাইল চুরি চক্রের পর্দাফাঁস করে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংস্থার আটটি চুরি হওয়া অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যার মোট মূল্য ১.৫ লক্ষ টাকার বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি শহরের প্রধান হাসপাতাল ও বাসস্ট্যান্ডে রাতের বেলা ঘুমিয়ে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করত।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা শুধু মোবাইল চুরি করত না, চুরি হওয়া মোবাইল পরবর্তীতে অপরাধী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের কাছেও পৌঁছে দিত। ঘটনার পর পুরো নেটওয়ার্কের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

মামলাটি সামনে আসে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে। তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং তিনি রাতের বেলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঘুমিয়ে পড়েন। সেই সময় তাঁর পকেট থেকে মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায়।

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে হাসপাতাল এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। প্রযুক্তিগত প্রমাণ এবং তথ্যদাতাদের সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে অভিযানে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে অভিযোগে উল্লিখিত মোবাইল ফোনসহ আরও সাতটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, তারা রাতের বেলা হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড এবং বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে গিয়ে প্রথমে মানুষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত।

বিশেষ করে হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তি কিংবা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রাবিরতির সময় ঘুমিয়ে থাকা মানুষদের লক্ষ্য করা হতো। দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি চালানোর পর কেউ গভীর ঘুমে থাকলে তার পকেট বা মালপত্র থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যেত তারা।

পুলিশের ধারণা, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশলে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল এবং এ ধরনের আরও একাধিক ঘটনার সঙ্গে তাদের যোগসূত্র থাকতে পারে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তদের কার্যক্রম শুধুমাত্র মোবাইল চুরির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। চুরি হওয়া মোবাইল ফোন এমন ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো, যারা নথিপত্রবিহীন বা সন্দেহজনক মোবাইল কিনতে আগ্রহী।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, চুরি হওয়া মোবাইল ফোন অনেক সময় অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও ব্যবহৃত হয়। তাই তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন খতিয়ে দেখছে এসব মোবাইল কার কাছে পৌঁছানো হতো এবং এই নেটওয়ার্কে আর কারা জড়িত।

গ্রেপ্তারের সময় ভিভো, রেডমি, ওপ্পো এবং টেকনোসহ বিভিন্ন সংস্থার আটটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মোবাইল লক অবস্থায় পাওয়া গেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলির প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, কিছু মোবাইল অন্য চুরির ঘটনার সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারে। প্রযুক্তিগত পরীক্ষার মাধ্যমে সব মোবাইলের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া দুই অভিযুক্তই আগে থেকে একাধিক অপরাধমূলক মামলায় জড়িত ছিল। একজনের বিরুদ্ধে চুরি, লুট, আর্মস অ্যাক্ট এবং অন্যান্য অপরাধ সংক্রান্ত ১০টির বেশি মামলা রয়েছে।

অন্য অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চুরি, সিঁধ কাটা, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত এক ডজনের বেশি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। পুলিশের দাবি, তারা পেশাদার অপরাধী এবং দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিল।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও চলমান এবং আগামী দিনে এ মামলায় আরও গ্রেপ্তার হতে পারে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন চুরি হওয়া মোবাইল কোথায় বিক্রি করা হতো এবং নেটওয়ার্কটির কার্যক্রম জয়পুরের বাইরে অন্য শহরেও বিস্তৃত ছিল কি না।

পুলিশের বক্তব্য, সংগঠিত মোবাইল চুরি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত সকলকে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Leave a comment