জয়পুরের ঐতিহাসিক পরকোটা এলাকায় শুক্রবার একটি সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, যখন একটি তিনতলা জরাজীর্ণ ভবন হঠাৎ সামনের দিকে হেলে পড়ে এবং তার দেয়ালে গভীর ফাটল দেখা যায়। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনকে খবর দেন। এরপর পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং নগর নিগমের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভবনে বসবাসকারী সকলকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
প্রশাসনের মতে, ভবনটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারত। সেই আশঙ্কায় আশপাশের পুরো এলাকা নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয় এবং সাময়িকভাবে মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি জয়পুরের গালতাগেট থানার অন্তর্গত টিক্কিগ্রান মহল্লার। প্রায় ৩০ গজ জায়গার ওপর নির্মিত তিনতলা ভবনটিতে হঠাৎ ফাটল দেখা দেয় এবং পুরো কাঠামো সামনের দিকে হেলে পড়ে। ভবনের অবস্থা খারাপ হতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে খবর দেন।
খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান শুরু করে।
উদ্ধার অভিযানে ভবনে বসবাসকারী প্রায় আটটি পরিবারের প্রায় ৪০ জনকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। প্রশাসন বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বের করার জন্য সীমিত সময় দেয় এবং এরপর পুরো ভবন খালি করে দেয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সময়মতো সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আপাতত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভবনের অস্থিতিশীল অবস্থা বিবেচনায় পুলিশ ভবনের আশপাশের তিনটি গলিতে ব্যারিকেড বসিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের ভবনের কাছে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভবনের কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকার বাসিন্দারা জানান, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। তাঁদের দাবি, তা সত্ত্বেও সেখানে বিপুল সংখ্যক ভাড়াটিয়া বসবাস করছিলেন।
কিছু বাসিন্দার মতে, ভবনে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ থাকতেন, ফলে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে গিয়েছিল। তাঁরা পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবনগুলির নিয়মিত পরিদর্শনের দাবি জানান।
ভবনের মালিক রেহনা সুলতানা জানান, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনের সময় তিনি এই সম্পত্তির মালিকানা পান। তিনি বলেন, তিনি নিজে এই ভবনে থাকেন না এবং অন্য এলাকায় বসবাস করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ভবনে মাত্র পাঁচ থেকে ছয়জন বসবাস করতেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেখানে বসবাসকারীর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি ছিল। প্রশাসন বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা খতিয়ে দেখছে।
ভবনের পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটনাস্থলে সিভিল ডিফেন্সের দল মোতায়েন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ভবনের অবস্থা নিয়মিত মূল্যায়ন করছেন, যাতে সম্ভাব্য কোনো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
প্রশাসন আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
ঘটনার পর নগর নিগম ভবনের মালিককে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিস জারি করেছে। নোটিসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে ভবনের কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় মেরামত বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নগর নিগম জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তাদের ক্ষমতাবলে আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং নগর নিগমের যৌথ অভিযানে সব বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পুরো এলাকাটি সতর্কতামূলকভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে।
এখন বিশেষজ্ঞরা ভবনের কাঠামোগত অবস্থা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করবেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ভবনটির মেরামত সম্ভব কি না, নাকি সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা প্রয়োজন। আপাতত প্রশাসন সাধারণ মানুষকে নিষিদ্ধ এলাকা থেকে দূরে থাকার এবং নিরাপত্তা সংস্থার নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।








