স্বপ্ন ছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য চাকরির অপেক্ষায় না থেকে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবসার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন জলপাইগুড়ির তনুশ্রী রায় দাস। শাড়ি, ব্লাউজ, কুর্তা-সহ নানা ধরনের পোশাক বিক্রি দিয়ে শুরু হয়েছিল পথচলা। সময়ের সঙ্গে অনলাইন ব্যবসার পরিধি বাড়ে, পরিচিতিও ছড়িয়ে পড়ে। আর এবার সেই পথ ধরেই পৌঁছে গেলেন টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’-য়।
![]()
ফেসবুক পেজ থেকেই ব্যবসার শুরু
স্বনির্ভর হওয়ার ইচ্ছা থেকেই কয়েক বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পোশাক বিক্রির কাজ শুরু করেন তনুশ্রী। ফেসবুক পেজকে কেন্দ্র করে মহিলাদের পোশাক ও বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করতেন তিনি। শাড়ি, ব্লাউজ, কুর্তা-সহ নানা পণ্যের ছবি ও তথ্য তুলে ধরে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করতেন।শুধু পণ্য বিক্রি নয়, অভিনব উপস্থাপনা এবং নিজের স্বতন্ত্র প্রচারের ধরনও তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। ধীরে ধীরে অনলাইন ব্যবসার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও বাড়তে থাকে।
অনলাইন থেকে এবার স্থায়ী দোকান
দীর্ঘদিন অনলাইনে ব্যবসা করার পর প্রায় এক বছর আগে নতুন উদ্যোগ নেন তনুশ্রী। বোনকে সঙ্গে নিয়ে জলপাইগুড়ির মার্চেন্ট রোডে একটি স্থায়ী দোকান শুরু করেন। তবে দোকান খোলার পরেও অনলাইন ব্যবসা বন্ধ করেননি।একদিকে দোকানে ক্রেতাদের পরিষেবা, অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পণ্যের প্রচার—দুই দিকই সমানভাবে সামলেছেন তিনি। আর এই ধারাবাহিকতাই তাঁর পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়।
সংসার সামলেও থামেননি
তনুশ্রীর জীবনযাত্রার আরেকটি দিকও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুলে তাঁর পড়াশোনা। পরে প্রসন্নদেব মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে ভূগোলে অনার্স করেন। এরপর পোস্ট অফিসে কর্মরত এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের একটি মেয়েও রয়েছে, যে বর্তমানে জলপাইগুড়ির একটি বেসরকারি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।সংসার ও সন্তানের দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেননি তনুশ্রী। বরং সেই কাজকেই ধীরে ধীরে নিজের পরিচয়ের অংশ করে তুলেছেন।
![]()
সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিতি থেকেই ‘বিগ বস বাংলা’
ব্যবসার প্রয়োজনে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত উপস্থিতি শেষ পর্যন্ত তাঁকে এনে দেয় আরও বড় সুযোগ। পরিচিত ব্যবসায়ী এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মুখ হিসেবে এবার ‘বিগ বস বাংলা’-র মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।তাঁর এই সাফল্যের খবরে স্বাভাবিকভাবেই খুশি জলপাইগুড়ির মানুষ। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, নিজের চেষ্টায় তৈরি করা পরিচিতিই তনুশ্রীকে এত বড় মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে।
তনুশ্রীর সাফল্যে গর্বিত জলপাইগুড়ি
তনুশ্রীর পুরনো ক্রেতা ও সোশ্যাল মিডিয়ার অনুরাগী সুজাতা প্রধানও তাঁর সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, তনুশ্রীর বিক্রি করা সামগ্রীর মান ভালো। জলপাইগুড়ির মেয়ে হিসেবে তনুশ্রীর এই জায়গায় পৌঁছনো স্থানীয়দের কাছে গর্বের বিষয়।এখন তাঁদের প্রত্যাশা, ‘বিগ বস বাংলা’-র মঞ্চেও নিজের দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মন জয় করবেন তনুশ্রী এবং সেরার শিরোপা নিয়েই জলপাইগুড়িতে ফিরবেন।
![]()
নিজেকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পোশাকের ব্যবসা শুরু করেছিলেন জলপাইগুড়ির তনুশ্রী রায় দাস। অনলাইন ব্যবসা থেকে ধীরে ধীরে তৈরি হয় পরিচিতি, পরে বোনকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন দোকানও। এবার সেই পরিচিত মুখই জায়গা করে নিয়েছেন জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস বাংলা’-র মঞ্চে।








