Jaya Prada: ৩ সন্তানের বাবার প্রেমে পড়ে বিয়ে, তবু পাননি স্ত্রীর মর্যাদা! মা হওয়ার স্বপ্নও পূরণ হয়নি এই সুন্দরী অভিনেত্রীর

দক্ষিণী সিনেমা থেকে বলিউডে সাফল্য পাওয়া জয়া প্রদার ব্যক্তিগত জীবন ছিল নানা বিতর্কে ঘেরা। তিন সন্তানের বাবার সঙ্গে বিয়ে, স্ত্রীর স্বীকৃতি না পাওয়া এবং মাতৃত্বের অপূর্ণতার গল্প জানুন।

পর্দায় কখনও ঘরোয়া, কখনও গ্ল্যামারাস চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছেন যে অভিনেত্রী, তাঁর নিজের জীবনে যেন ছিল সম্পূর্ণ উল্টো গল্প। মাত্র ১৩ বছর বয়সে অভিনয়ের সুযোগ, দক্ষিণী সিনেমায় সাফল্য, তারপর বলিউডে এসে রাতারাতি তারকা—কেরিয়ারে সাফল্যের কমতি ছিল না। কিন্তু প্রেম ও সংসারের ক্ষেত্রে সেই সাফল্য ধরা দেয়নি। তিন সন্তানের বাবাকে ভালোবেসে বিয়ে করেও নিজের প্রাপ্য সম্মান পাননি বলে জানা যায়। সেই অভিনেত্রী আর কেউ নন, জয়া প্রদা।

মাত্র ১০ টাকায় অভিনয়জীবনের শুরু

জয়া প্রদার আসল নাম ছিল ললিতা রানী। অন্ধ্রপ্রদেশে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী ছোটবেলা থেকেই নাচে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেছিলেন তিনি।সেই অনুষ্ঠানেই এক পরিচালক তাঁর প্রতিভা দেখে সিনেমায় কাজের প্রস্তাব দেন। এরপর তেলুগু ছবি ‘ভূমি কোশম’-এর মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন জয়া। প্রথম ছবির জন্য পারিশ্রমিক হিসেবে পেয়েছিলেন মাত্র ১০ টাকা।

দক্ষিণ থেকে বলিউডে এসে রাতারাতি তারকা

তেলুগু ও তামিল সিনেমায় একের পর এক কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জনের পর হিন্দি ছবির দুনিয়ায় পা রাখেন জয়া প্রদা। ‘সারগম’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি হিন্দি সিনেমার দর্শকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পান।ছবিটি বড় সাফল্য পাওয়ার পর রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন তিনি। শুরুর দিকে হিন্দি ভাষায় কিছুটা সমস্যা থাকলেও পরবর্তী সময়ে সেই বাধা কাটিয়ে ওঠেন। ‘কামচোর’-এর সময় তাঁর হিন্দি বলার দক্ষতাও অনেকটাই সাবলীল হয়ে গিয়েছিল।১৯৮৫ সালের দিকে বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের মধ্যে জয়ার নাম উঠে আসে।

জীবনের কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন শ্রীকান্ত

কেরিয়ারের শীর্ষে থাকার সময় জয়া প্রদার বাড়িতে আয়কর দফতরের হানা দেওয়ার ঘটনা তাঁর পেশাগত জীবনেও প্রভাব ফেলেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই কঠিন সময়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক শ্রীকান্ত নাহাটা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।ধীরে ধীরে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁরা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু এই সম্পর্কের একটি বড় জটিলতা ছিল—শ্রীকান্ত তখন আগে থেকেই বিবাহিত এবং তিন সন্তানের বাবা।

বিয়ে করেও কেন পেলেন না স্ত্রীর মর্যাদা?

সমাজের প্রচলিত নিয়মের তোয়াক্কা না করে শ্রীকান্ত নাহাটাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন জয়া প্রদা। তাঁদের বিয়েও হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।কিন্তু সমস্যা ছিল অন্য জায়গায়। শ্রীকান্ত তাঁর প্রথম স্ত্রীকে কখনও ডিভোর্স দেননি বলে জানা যায়। ফলে জয়া প্রদার এই বিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ছিল।প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিঁদুর পরলেও জয়া সামাজিকভাবে প্রথম স্ত্রীর মতো স্বীকৃতি পাননি। এই পরিস্থিতি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

মা হওয়ার ইচ্ছাও পূরণ হয়নি

ব্যক্তিগত জীবনের আরেকটি বড় আক্ষেপ ছিল মাতৃত্ব। জয়া প্রদা নিজের সন্তান চান বলে বিভিন্ন সময়ে জানা গেলেও তিনি মা হতে পারেননি।

মাত্র ৩২ বছরেই সিনেমা ছেড়ে রাজনীতিতে

অভিনয়জীবনে সাফল্যের শিখরে থাকা অবস্থাতেই ১৯৯৪ সালে, মাত্র ৩২ বছর বয়সে রাজনীতিতে পা রাখেন জয়া প্রদা। এন.টি. রামা রাওয়ের আমন্ত্রণে তিনি তেলুগু দেশম পার্টিতে যোগ দেন।পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনও যথেষ্ট ঘটনাবহুল হয়ে ওঠে। প্রায় তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে একাধিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

অমর সিংয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়েও কম জল্পনা হয়নি

রাজনৈতিক জীবনে অমর সিংয়ের সঙ্গে জয়া প্রদার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল বহুল আলোচিত। তাঁর সূত্রেই জয়া সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।জয়া তাঁকে ভাই হিসেবে দেখতেন এবং রাখিও পরাতেন বলে জানা যায়। তা সত্ত্বেও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল।২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজনৌর কেন্দ্র থেকে রাষ্ট্রীয় লোকদলের প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জয়া প্রদা। তবে সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।

দক্ষিণী সিনেমা থেকে বলিউড—দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছিলেন জয়া প্রদা। একসময় বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের তালিকাতেও ছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে ছিল একের পর এক ঝড়। বিবাহিত এবং তিন সন্তানের বাবা প্রযোজক শ্রীকান্ত নাহাটার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করলেও প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ না হওয়ায় জয়া প্রদা কখনও সামাজিকভাবে পূর্ণ স্ত্রীর মর্যাদা পাননি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। মা হওয়ার ইচ্ছাও অপূর্ণ থেকে যায় তাঁর।

Leave a comment